মেলান্দহজুলাই গণঅভ্যুত্থানপ্রধান খবর

দেশের জন্য জীবন দিলেন জসিম: আশ্রয়হীন শহীদের পরিবার

মো: মিরাজুল ইসলাম,জাবিপ্রবি: ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে জীবন উৎসর্গ করা শহীদ জসিমের পরিবার আজও বাস্তুহারা ও সহায়-সম্বলহীন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপস্থিত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এক বুক কষ্ট ও বেঁচে থাকার আক্ষেপের কথা তুলে ধরেন জসিমের মা আছিয়া বেগম (৫২) ও অসুস্থ বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৭)। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে চরম অনটন আর ঋণের বোঝা নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি।

জসিমের মা-বাবা জানান- জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নয়ারনগর গ্রামের সন্তান জসিম দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতায় দশম শ্রেণির পরই পড়াশোনা ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে পরিবারকে সহায়তা করতে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন তিনি। তার অর্জিত উপার্জনেই দুবেলা খাবার জুটত বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানের। গত বছরের ৪ আগস্ট রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার নর্দা ওভারব্রিজের পাশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হন জসিম। দীর্ঘ ১০ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১৪ আগস্ট তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিজের কোনো বসতভিটা না থাকায় বর্তমানে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে দিন পার করছে পরিবারটি। অসুস্থতার কারণে বাবা জাহাঙ্গীর আলমের কাজ করার সামর্থ্য নেই, তার ওপর সংসার চালাতে গিয়ে জমেছে প্রায় এক লাখ টাকার ঋণ। জসিমের বিবাহযোগ্য বোনের বিয়েও এখন অনিশ্চিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার সামনে ছেলের অপূর্ণ স্বপ্নের কথা স্মরণ করে আকুল হয়ে কেঁদে ফেলেন মা আছিয়া বেগম। আঞ্চলিক ভাষায় জসিমের সেই আকুতির কথা উল্লেখ করে তিনি স্মৃতিচারণ করেন, “আম্মা, আমি বিদেশ যামু গা। আমাদের তো জাগা-জমি নাই, থাকি নানার বাড়িত। কতকাল থাকমু? বিদেশ যাইয়া কামাই কইরা তোমারে ঘরে রাইখা যেন মরবার পারি।” তিনি জানান, পরিবারের জন্য একটি বাড়ি নির্মাণ, ছোট ভাইয়ের পড়াশোনা ও বোনের বিয়ের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন ছিল জসিমের।

ছেলের সেই স্বপ্নগুলো আজ শুধুই স্মৃতি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অতিথি এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাদের কাছে হাত বাড়িয়ে পরিবারের সহায়তার আকুল আবেদন জানান আছিয়া বেগম। দেশের জন্য জসিম আত্মত্যাগ করলেও তার পরিবার এখনও মাথার ওপর একটি স্বাধীন ছাদ পায়নি। ছেলে হারানোর বেদনা আর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার ভার বহন করা এই পরিবারের দিনযাপন জাতির বিবেকের কাছে এক নীরব প্রশ্ন রেখে যায়।

Related Articles

Back to top button