মেলান্দহ

মাঠে নেই কৃষি কর্মকর্তা, ইউটিউব ও দোকানই কৃষকদের ভরসা

মো. রোকুজ্জামান ও রাকিবুল হাসান

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি আমন মৌসুমে ফসলে পোকামাকড় আক্রমণ ও সার ব্যবস্থাপনায় কোনো সরকারি সহায়তা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তারা ইউটিউব দেখে এবং স্থানীয় সারের দোকান থেকে পরামর্শ নিয়ে চাষাবাদ করছেন।

উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকুজ্জামান এবং মেলান্দহ পৌরসভার দায়িত্বে থাকা রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে এই গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।

কৃষকদের দাবি, নিয়মিত মাঠে না গিয়ে এসব কর্মকর্তা কেবল এলাকার ধনী ও প্রভাবশালীদের সঙ্গে সময় কাটান। ফলে সাধারণ কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ব্যাহত হচ্ছে কৃষির স্বাভাবিক উৎপাদন।

আদ্রা এলাকার কৃষক আলাউদ্দিন বলেন- এলাকায় কোনো কৃষি অফিসার না আসায় আমি ইউটিউব দেখে খেতে সার ও বিষ দিই। ইউটিউব থেকেই জানতে পারি কোন সার কী পরিমাণ দিতে হবে।

নয়ানগর এলাকার কৃষক মো. আলম বলেন, আমার খেতে পোকা ধরছে, কিন্তু কোনো কৃষি অফিসার আসে না। বাধ্য হয়ে দোকান থেকে পরামর্শ নিয়ে খেতে বিষ দিই। সঠিক পরামর্শ না পাওয়ায় আমাদের বাড়তি দামে সারও কিনতে হয়।

দিঘলবাড়ি এলাকার সোহেল, শরবত ও আনোয়ার নামের কৃষকদেরও একই অভিযোগ।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আনোয়ার বলেন, পাকিস্তান আমল থেকে আবাদ করি, কোনোদিন উপসহকারী (বি.এস) আসে না। দোকানে গিয়ে বলি পোকা ধরছে, তারা বিষ দিলে খেতে দিই। আমার কৃষি কার্ড থাকলেও কোনো সুবিধা পাই না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, সারের দোকানে বলি পোকা ধরছে। কার উনো গেলে পরামর্শ পামু কিছুই জানিনা।

কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে পশ্চিম আদ্রা এলাকার কৃষক জুরশেভ বলেন- যাদের সাথে অফিসারের সখ্যতা আছে, তারা তাদের বাড়িতে গিয়ে বসে এবং তাদেরই সার দেয়। সাধারণ কৃষকের সাথে তারা কোনো দেখা সাক্ষাৎ করে না।

আরেক কৃষক জাকির বলেন, যাদের বাড়িতে বড় বড় বিল্ডিং ও ছাদ আছে, অফিসার শুধু তাদের বাড়িতেই যায়। আমি ভুট্টার আবাদ করি, কিন্তু উপসহকারী কৃষি অফিসার কোনটা বলতেই পারমুনা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রোকুজ্জামানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপর কর্মকর্তা রাকিবুল হাসানকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

তবে মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, কৃষকরা এ বিষয়ে অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button