ফিরোজ শাহ, ইসলামপুর: দূর থেকে দেখলে শুধু বালুচর। কাছে গেলে বদলে যায় দৃশ্য। যমুনার বুকে জেগে ওঠা এই চরে এখন রাজত্ব করছে মহিষের পাল। জামালপুর জেলার যমুনার নদীর মাঝখানে বিস্তীর্ণ বালুচরে ছড়িয়ে আছে মহিষের বিশাল পাল। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই এই চরে টিকে থাকতে হয় মহিষসহ রাখালদের। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বলছেন- এভাবে মহিষ লালান পালন করার পাশাপাশি একটু যত্নশীল হলে লাভবান হবেন খামারীরা।
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার হারগীলা প্রত্যন্ত চরে এখন দেখা মিলছে প্রায় ২৫০ মহিষের বিশাল পাল। খোলা মাঠ, প্রাকৃতিক ঘাস আর নদীর পানি সব মিলিয়ে মহিষ পালনের জন্য আদর্শ এই চর। মহিষের রাখালদের জীবনে রয়েছে শুধু দুঃখ আর সহ্যের গল্প। ভোর হয় কিন্তু ঘুম ভাঙে না কষ্টের। বালুচরের ঠান্ডা মাটিতে খালি পা ফেলে রাখাল হাঁটে। এযেনো মানুষ আর পশুর এক প্রাকৃতিক মেলবন্ধন।
যমুনার বুকে এই মহিষের পাল আজ হয়ে উঠেছে জীবিকার ভরসা আর টিকে থাকার এক নীরব সংগ্রাম। চর থেকে চরে ছোট ছোট তাবু গেড়ে বসবাস এই মানুষগুলোর।
রাখালরা জানান-মহিষগুলোকে ছোট থেকেই তারা তাদের সন্তানের মতোই লালন পালন করেন। ঝড় বৃষ্টি মাথায় নিয়েই তারা এক নিরব প্রহরীর ভূমিকায় থাকেন শুধু পরিবারের একটু সচ্ছলতার আশায়।
মহিষের খামারীদের একজন বিমল চন্দ্র জানান- চরে প্রাকৃতিক ঘাসের মজুত কমে যাওয়ায়, মহিষের জন্য খাদ্য উপকরণ ক্রয় করে খাওয়াতে হচ্ছে। পশু খাদ্য উপকরণের দাম বৃদ্ধির ফলে লোকসানের আশংকা করছেন তারা।
এবিষয়ে ইসলামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল আলিম জানান- প্রাকৃতিক পরিবেশে এসব চরে মহিষ পালন করলে লাভবান হতে পারবে খামারীরা।
রোগবালাই প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন- মহিষের পালটি পরিদর্শন করে পশুর স্বাস্থ্যঝুকি এড়াতে তাদের পরামর্শ দেওয়া হবে।




