প্রধান খবরসারাদেশ

বৈশাখী মেলা ঘিরে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর:  আসন্ন বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎপল্লীগুলোতে। ব্যস্ততা বেড়েছে শেরপুরের কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীদের। এখন চলছে শেষ পর্যায়ে মাটির তৈজসপত্র ও খেলনা রাঙিয়ে তোলার কাজ।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গ্রাম ও শহরে মেলাসহ নানা লোকজ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। আর এসব অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাড়ে মাটির তৈরি বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা।

ফলে ফাল্গুন মাস থেকেই মাটির তৈজসপত্র ও খেলনা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা।

বৈশাখ উপলক্ষে পণ্য প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শেরপুর সদরের বয়ড়া পাল পাড়ার ২০ থেকে ২৫ জন মৃৎশিল্পী।

বৈশাখের আগের দিন এসব তৈজসপত্র শেরপুর সহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় সরবরাহ করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়- শেরপুর সদরের বয়রা পাল পাড়ার কুমারপাড়ার কমলা রানি পাল, মিতা রানিসহ আসছে পহেলা বৈশাখ ঘিরে পরম যত্নে পরিপাটি করছেন হাতি, ঘোড়া, গরু, হাড়ি-পাতিল আর শিশুদের খেলনাসহ নানা সামগ্রী। শেষ সময়ে সবাই রং তুলির আচড়ে রাঙাচ্ছেন। বাংলার নববর্ষকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে বসে বৈশাখীমেলা। বাড়তি লাভের আশায় দিন রাত এখন কাজের ধুম কুমার পাড়ায়।

মৃৎশিল্পী রনজিত পাল বলেন-“হাতি, ঘোড়া, গরু, হাড়ি-পাতিল এগুলা তৈরি করতাছি। কিন্তু এহন আগের মতো চাহিদা নাই মাটির জিনিসের। আগে তো মাটির জিনিস তৈরি করতে যে উপদান লাগতো সেগুলার দাম কম আছিল। এহন সব কিছুর দাম বেশি। আর প্লাস্টিকের জিনিস বার হইছে। আমরা টুকটাক মেলা করার জন্য কিছু জিনিস বানাই তাও লাভ কম। এহন পোলাপান তো এ পেশাই আসবারই চায় না। আমাদের পর আর এ পেশার লোক পাওয়া যাবে না। সরকার সহযোগিতাও করে না। আমাগো এখানে আগে সব বাড়িতেই মাটির জিনিস তৈরি হইতো কিন্তু এহন মাত্র তিন পরিবার মেলা করার জন্য এগুলা বানাইতাছি।”

পাল পাড়ার কুমারপাড়ার মিতা রানি পাল বলেন- “সামনে পহেলা বৈশাখের মেলায় নিয়ে যাবো। তাই আমরা দিন রাত এক কইরা জিনিস বানাইতাছি। আমগো মালগুলা টাঙ্গাইলের কালিহাতির মেলায় যাবে। এহন রংয়ের কাজ চলতাছে।”

মৃৎশিল্পী পলাশ চন্দ্র পাল বলেন-“আমরা তো অনেক জনে এই পেশার কাজ করতাম। কিন্তু এহন কইমা গেছে। লাভ নাই, প্লাস্টিকের মাল নাইমা আমাগো মাল বিক্রি কম হয়। আর আমাগো মালের খরচ বেশি পরে। সামনে মেলা করমু তাই কিছু মাল বানাইতাছি। আসলে আমাদের স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের প্রয়োজন। যাতে আমরা বেশি কিছু আধুনিক মেশিন কিনতে পারি। আর আধুনিক কিছু জিনিস বানাতে পারি।”

শেরপুর বিসিকের উপ ব্যবস্থাপক মো. আতাউর রহমান ফকির বলেন- “শেরপুরে ১২ থেকে ১৪টি পরিবার মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত। আমাদের থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা ও সহযোগিতা করা হয়। নকশা, নমুনা বিতরণ ও আমাদের ঢাকায় একটি ডিজাইন সেন্টার রয়েছে। সেই ডিজাইন সেন্টার থেকে আমাদের জেলা কার্যালয়ে বিভিন্ন ডিজাইন পাঠানো হয়। আমাদের যারা স্থানীয় উদ্যোক্তা তাদের সরবরাহ করে থাকি “

মো. আতাউর রহমান ফকির আরো বলেন- “এছাড়াও আমাদের বিসিক থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। তারা যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের সার্বিকভাবে সহায়তা করা হবে।”

Related Articles

Back to top button