নদীভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি: স্থায়ী বাঁধের দাবিতে মানববন্ধন
মতিন রহমান, বকশীগঞ্জ: জামালপুরের বকশীগঞ্জে দশানী নদীর তীব্র ভাঙনে গত ৪৮ ঘণ্টায় আইরমারি খানপাড়া গ্রামের পাঁচটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন চরম আশ্রয়হীনতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। এই অবস্থায় নিজেদের শেষ সম্বল রক্ষা এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইরমারি খানপাড়া গ্রামবাসী এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। কর্মসূচির শুরুতে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দশানী নদীর ভাঙন বর্তমানে এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে মুহূর্তের মধ্যেই বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বর্তমানে তীব্র হুমকিতে রয়েছে সাধুরপাড়া-মেরুরচর-দেওয়ানগঞ্জ সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন, একটি মাদরাসা এবং দুই শতাধিক বসতবাড়ি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে মানচিত্র থেকে আইরমারি খানপাড়া গ্রামের অস্তিত্ব মুছে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
মানববন্ধনে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা দাবি করেন- ভাঙন রোধে স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নিরুপায় হয়ে তারা নিজেদের উদ্যোগে গাছের ডালপালা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর সাময়িক চেষ্টা করছেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গাজীউর রহমান মোল্লা, আব্দুস সালাম, নয়ন, সাবেক ইউপি সদস্য আজাদ খান ও কবির হোসেনসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। তারা অতি দ্রুত নদী শাসনের মাধ্যমে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এই বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন উল্লেখ করেন- নদী ভাঙনের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। তারা দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি তুলে ধরেন।




