মাদারগঞ্জ

সৎ শ্বশুড়কে তুলে নিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে

এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় আশেক মিয়া নামের এক প্রবাসীকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন এবং শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রলীগ নেতা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই প্রবাসীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

গত সোমবার রাতে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের গুণেরবাড়ি এলাকায় এই বর্বর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আশেক মিয়া গুণেরবাড়ি এলাকার মাখন মিয়ার ছেলে।

এ ঘটনায় তাঁর বাবা বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে আদারভিটা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ভাসানী, তার বাবা রফিকুল ইসলাম অক্কু, দাদা শাহজাহান খান, মা জোলেখা আক্তার এবং আশেক মিয়ার স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে- পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে গত সোমবার সকালে ছাত্রলীগ নেতা ভাসানী ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আশেক মিয়ার পরিবারের ওপর হামলা চালান। এ সময় ঘরের তালা ভেঙে ১৮ লাখ টাকা ও দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয় বলে পরিবার দাবি করেছে। পরে বিষয়টি আপস-মীমাংসার কথা বলে সালিশের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন না করে উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হয়। একই দিন রাত ৮টার দিকে মির্জা আজম কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে সংঘবদ্ধ চক্রটি আশেক মিয়াকে তুলে নিয়ে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে আটকে রাখে। সেখানে একটি কক্ষে হাত-পা বেঁধে তাঁর ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আশেক মিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নির্যাতিত প্রবাসীর বড় বোন মাহফুজা ঘটনার বিবরণ দিয়ে দাবি করেন- তাঁর ভাই বিদেশ থেকে ফিরে স্ত্রীর কাছে পাঠানো টাকার হিসাব চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ভাই রাগের মাথায় স্ত্রীকে একটি থাপ্পড় দেন। এর জের ধরেই মেয়ের জামাই ছাত্রলীগ নেতা ভাসানী ও তার পরিবারের সদস্যরা তাঁর ভাইকে তুলে নিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে হত্যার উদ্দেশ্যে অমানবিক নির্যাতন চালায়। তারা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চান।

আহতের ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন- তাঁর ভাইয়ের স্ত্রীর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। মুঠোফোনে পরিচয়ের সূত্রে তাদের বিয়ে হয়েছিল। তবে বিয়ের সময় তিনি আগের সংসারের একটি মেয়ের কথা গোপন রেখে ভাগ্নি পরিচয় দিয়ে আমাদের পরিবারে নিয়ে আসেন। পরে ওই মেয়ের সঙ্গে আমাদের এলাকার যুবক ও ছাত্রলীগ নেতা ভাসানীর বিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর ভাই বিদেশ থেকে যে টাকা পাঠাতেন, তার বড় অংশই স্ত্রী তাঁর মেয়ে ও মেয়ের জামাইকে দিতেন। দেশে ফিরে টাকার হিসাব চাওয়াতেই এই বিরোধের সূত্রপাত। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে না পাওয়ায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জাকারিয়া ইসলাম জানান, আশেক মিয়া নামের ওই ব্যক্তিকে গত ৬ জুলাই রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় আশ্বস্ত করে জানান- ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Back to top button