এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয়: ১৫ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ২৫ শতাংশ
এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪৩৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করেছে মাত্র ১১১ জন। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত পাসের হার মাত্র ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ।
গত সোমবার ফলাফল প্রকাশের পর এমন চিত্র উঠে এলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকরা।
মাদারগঞ্জ উপজেলার সাধারণ ধারার সামগ্রিক ফলাফলও এবার বেশ হতাশাজনক।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মাদারগঞ্জ উপজেলায় এ বছর ৩ হাজার ২৪০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হয়েছে ১ হাজার ৪৮২ জন, যেখানে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৩ জন। তবে মাদরাসা ও কারিগরি শাখায় তুলনামূলক ভালো ফলাফল হয়েছে। মাদরাসায় পাসের হার ৭৮ দশমিক ১৭ এবং কারিগরিতে ৬০ দশমিক ৮০ শতাংশ। এমনকি চরলোটাবর দাখিল মাদরাসা, রাবেয়া রইচ বালিকা ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এবং নব্যচর বি.এম. স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে খারাপ অবস্থা নিশ্চিন্তপুর-কাতলামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের। সেখানে ১৫ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে মাত্র দুজন। লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩ জনের মধ্যে পাঁচজন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গীতিকার নজরুল ইসলাম বাবু উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮ জনের মধ্যে তিনজন এবং খিলকাটি আইডিয়াল হাই স্কুলে ২৮ জনের মধ্যে মাত্র ছয়জন পাস করেছে।
এ ছাড়া তেঘরিয়া শাহেদ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৭৮ জনের মধ্যে ২৩ জন, কলাদহ মির্জা গোলাম মোস্তফা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭২ জনের মধ্যে ১৮ জন, লোটাবর ছেরাতুন নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫৬ জনের মধ্যে ১৪ জন, তাহমিনা হাসান আলী আমিনুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৯ জনের মধ্যে ১২ জন এবং ইসলামাবাদ ওয়াসিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪৮ জনের মধ্যে ১০ জন কৃতকার্য হয়েছে। গিয়াস উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, গুনারীতলা উচ্চ বিদ্যালয়, ফুলজোর রহিম জাফর উচ্চ বিদ্যালয়, চরনাংলা বেসরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বি.ঘু.ন.ম. ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা এবং চরপরতাজু দাখিল মাদরাসার ফলাফলও অত্যন্ত হতাশাজনক।
এমন বিপর্যয়ের জন্য দুর্বল ও অমনোযোগী শিক্ষার্থীদেরই দুষছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।
নিশ্চিন্তপুর-কাতলামারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রেজাউল করিমের দাবি, দুর্বল শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ায় ফলাফলে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
লালডোবা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী ছিল। অভিভাবকদের একাধিকবার জানানোর পরও কোনো লাভ হয়নি।
তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন অভিভাবকরা। তারা বলছেন, শুধু ফলাফল প্রকাশের পর ব্যর্থতার কারণ খুঁজলে হবে না। বছরের শুরুতেই দুর্বল শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ, সেগুলোকে নিয়মিত একাডেমিক তদারকির আওতায় আনা জরুরি।
সার্বিক বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, ফলাফলের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




