সরিষাবাড়ী

হোটেল কর্মচারী হত্যা: দেড় বছর পর রহস্য উন্মোচন

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে হোটেল কর্মচারী রাসেল মিয়া (৩৮) হত্যাকাণ্ডের দেড় বছর পর রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাওনা ৩৫ হাজার টাকাকে কেন্দ্র করে তাকে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ চায়ের দোকানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছিল।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. কালু মিয়া (২৮) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত পিপিএম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পিবিআই জানায়, নিহত রাসেল মিয়া সরিষাবাড়ী পৌরসভার আরামনগর বাজারের একটি হোটেলে কাজ করতেন। গত বছরের ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনি আর ফেরেননি। পরদিন সকালে আরামনগর বাজারের দুধহাটি এলাকায় একটি চায়ের দোকানের বাঁশের ধন্নার সঙ্গে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাসেলের মা মেহেনারা খাতুন বাদী হয়ে সরিষাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে তদন্তভার পিবিআইয়ের ওপর ন্যস্ত হয়।

তদন্ত ও আসামির জবানবন্দির বরাতে পিবিআই জানায়, রাসেলের কাছে ৩৫ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন সোহেল নামের এক ব্যক্তি। এই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে রাসেলের সঙ্গে সোহেলের বিরোধ তৈরি হয় এবং সোহেল তাকে হত্যার হুমকি দেন। ঘটনার দিন ১৯ মার্চ সন্ধ্যায় সোহেল তার এক বন্ধুর মাধ্যমে রাসেলকে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে কালু মিয়াসহ কয়েকজন মিলে রাসেলকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হলে হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে লাশ চায়ের দোকানে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এর আগে গত ১১ আগস্ট সরিষাবাড়ীর আরামনগর এলাকা থেকে অভিযুক্ত কালু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি। সেখানে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে মূল অভিযুক্ত সোহেলসহ সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন কালু।

পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, পাওনা টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাসেলকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Related Articles

Back to top button