সরকারি হাসপাতালের মালামাল চুরি নাকি বিক্রি-তদন্তের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরনো দরজা, জানালা, টিন ও কাঠসহ বিভিন্ন সরকারি মালামাল চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই ভাঙারি ব্যবসায়ীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে মালামালগুলো প্রকৃতপক্ষে চুরি হয়েছে, নাকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে বিক্রি করা হয়েছিল, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ধোঁয়াশা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পরিবার ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
গত ২ জুলাই বিকেলে উপজেলার বলারদিয়ার গ্রামের কার্তিক ঘোষ ও তার ছেলে রবি ঘোষকে সরকারি মালামালসহ আটক করে সরিষাবাড়ী থানা পুলিশ। এর আগে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে মালামালগুলো ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা বাধা দেন। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল ঘটনাস্থলে গিয়ে মালামালগুলো জব্দ করেন এবং ওই দুজনকে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পরে ৩ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মেহেদী হাসান বাদী হয়ে সরকারি মালামাল চুরির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন দুইজন।
তবে আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি, চুরির বিষয়টি সম্পূর্ণ সাজানো।
কার্তিক ঘোষের স্ত্রী চম্পা ঘোষের ভাষ্য, মমিন নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে ডা. দেবাশীষ তার স্বামীকে হাসপাতালে ডেকে নেন। এরপর সেখানে মালামালের দাম নির্ধারণ করা হয় এবং নৈশ প্রহরী রাহুলের মাধ্যমে ২৬ হাজার টাকা বুঝে নেওয়া হয়। সারাদিন কাজ শেষে মালামাল ভ্যানে তোলার সময় পুলিশ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাদের আটক করা হয়। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত দায়ীদের বিচার দাবি করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ফেমাস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী মমিন মিয়ার মন্তব্য, তিনি ভাঙারির ক্রেতা কার্তিককে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন মিলে ভাঙা জানালাগুলো সিঁড়ির পাশে রাখছিলেন এবং ডা. দেবাশীষ নিজে পুরো বিষয়টি তদারকি করছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের নৈশ প্রহরী রাহুল মন্তব্য করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে তার নাম জড়াচ্ছে।
এসব বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন- “এই বিষয়ে আমার তেমন কিছু জানা নেই। এখন চুরি হয়েছে নাকি বিক্রি হয়েছে, এই বিষয়টি তদন্ত করবে পুলিশ। যেহেতু মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে। সেহেতু এই বিষয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন-“বিষয়টি আমি জেনেছি। অতি দ্রুত স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার যদি কোনো ধরনের সহায়তা চায়, তাহলে তাদের সহায়তা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”
দিনের আলোয় এত পরিমাণ সরকারি মালামাল কীভাবে হাসপাতাল থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, কোনো অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নির্দোষ কাউকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে কি না, তা খুঁজে বের করতে দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।




