দেওয়ানগঞ্জ

ভারতীয় তরুণীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়িয়ে জামালপুরে যুবক কারাগারে

মহসিন রেজা রুমেল,দেওয়ানগঞ্জ: প্রেমের সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় ভারতীয় এক তরুণীর ব্যক্তিগত ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান মেহেদী (১৯) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে আটকের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আটক মেহেদী দেওয়ানগঞ্জ পৌর শহরের কালিকাপুর এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে কালিকাপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করা হয় এবং পরদিন বুধবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ডিবি পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়- ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক তরুণীর সঙ্গে মেহেদীর পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে তারা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সম্পর্কের অবনতি হলে মেহেদী ওই তরুণীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে দেন। শুধু তাই নয়, তরুণীর পরিবারের সদস্যদের কাছেও এসব ভিডিও পাঠিয়ে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেন।

এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণীর ভাই পশ্চিমবঙ্গের সূতি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জামালপুর জেলা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপরই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দেওয়ানগঞ্জ থেকে অভিযুক্ত মেহেদীকে আটক করা হয়।

এ বিষয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াহ্ইয়া আল মামুন জানান- পূর্ব পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে অনলাইনে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানসিক হয়রানির প্রমাণ প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, জব্দ করা মোবাইল ফোনটি ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রযোজ্য আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণসহ প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও তুলে ধরেন- সাইবার অপরাধ, অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল এবং নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিষয়ে জামালপুর জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

Related Articles

Back to top button