স্বাবলম্বী হয়ে প্রতিবেশীর পাশে ৩০০ পরিবার: উপহার দিচ্ছেন নিজের পালিত ছাগল
স্টাফ রিপোর্টার: দুই বছর আগে পাওয়া তিনটি ছাগল পালন করে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। এবার সেই অর্জনের আনন্দ ভাগ করে নিতে নিজেদের পালিত ছাগল থেকে একটি করে অসচ্ছল প্রতিবেশীদের উপহার দিচ্ছে জামালপুরের ৩০০ পরিবার।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে শহরের ইজ্জতুননেছা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তারা এমন মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম ও উন্নয়ন সংঘের উদ্যোগে ‘প্রতিবেশীর সাথে সম্পদ হস্তান্তর ও আনন্দ সহভাগিতা অনুষ্ঠান-২০২৬’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, দুই বছর আগে এই ৩০০ পরিবারের প্রত্যেককে তিনটি করে ছাগল দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি তাদের দেওয়া হয় শাকসবজি উৎপাদন, আয় বৃদ্ধি ও পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়নের প্রশিক্ষণ। নিয়মিত পরিচর্যায় প্রতিটি পরিবারের ছাগলের সংখ্যা বেড়ে এখন ১২ থেকে ১৫টি হয়েছে।
এই সুবিধাভোগীদেরই একজন আমেনা বেগম। তিনটি ছাগল দিয়ে শুরু করে তার পালে এখন ১৫টি ছাগল। নিজের পরিশ্রমে অর্জিত সম্পদ থেকে প্রতিবেশী সুরভী বেগমকে একটি ছাগল উপহার দিয়েছেন তিনি।
আমেনা বেগম বলেন, দুই বছর আগে ওয়ার্ল্ড ভিশনের মাধ্যমে পাওয়া ছাগল আমি যত্ন করে পালন করেছি। নিজের একটি ছাগল প্রতিবেশীকে দিতে পেরে আমি অনেক খুশি। আমি চাই, এই ছাগল লালনপালন করে সুরভীও একদিন স্বাবলম্বী হোক।
আমেনার কাছ থেকে ছাগল পেয়ে সুরভী বেগমও স্বপ্ন দেখছেন ভাগ্য বদলের। তিনি বলেন, প্রতিবেশী আমাকে একটি ছাগল দিয়েছেন। আমিও চেষ্টা করব ছাগলটি যত্ন করে বড় করতে। একদিন তার মতো স্বাবলম্বী হতে পারলে আমিও আরেকজন গরিব মানুষকে সাহায্য করব।
উন্নয়ন সংঘের পরিচালক (মানবসম্পদ) জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন-আমরা শুধু সম্পদ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সম্পদ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও তৈরি করা হয়েছে। আজ সুবিধাভোগীরা নিজেদের অর্জন থেকে যখন প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়াচ্ছেন, সেটাই আমাদের কাজের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
উদ্যোগটির প্রশংসা করে জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, মানুষকে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি প্রতিবেশীর প্রতি এমন দায়িত্ববোধ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। একটি পরিবার নিজের অবস্থার উন্নতি করে যখন আরেকটি পরিবারের পাশে দাঁড়ায়, তখন সমাজে সহযোগিতা ও মানবিকতার বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়।




