জাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য জাবি অধ্যাপক আমির হোসেন
লক্ষ্য ‘আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়’
মিরাজুল ইসলাম, জাবিপ্রবি: জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। নিয়োগ পাওয়ার পরপরই Jamalpurnews24.com এর কাছে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই নবীন প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭’-এর ১০ (১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. আমির হোসেন ভূঁইয়াকে আগামী চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে এবং তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন।
নিয়োগের পর ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া তাঁর দীর্ঘ গবেষণা জীবনের অভিজ্ঞতা এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজে লাগানোর কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি একজন বিজ্ঞানী ও গবেষক। আমার এই পঞ্চাশ বছরের বেশি বয়সের মধ্যে তিরিশ বছরই আমি বিজ্ঞান চর্চা করেছি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় আমার গবেষণাধর্মী প্রোফাইলের সঙ্গে এটি দারুণভাবে মিলে গেছে। আমার প্রধান লক্ষ্য হলো এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মানসম্মত এবং আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা।’
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোলাবোরেশন বাড়ানো এবং শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণার জন্য ইনস্টিটিউট করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই বর্ষীয়ান গবেষকের ৭০ থেকে ৮০টির মতো প্রকাশনা এবং ৫ হাজার ২০০-এর বেশি সাইটেশন রয়েছে। বিজ্ঞান চর্চায় অবদানের জন্য তিনি ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্স, বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্স এবং ইউজিসি থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টি জামালপুরের মতো প্রান্তিক এলাকায় হওয়ায় স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখার কথা ভাবছেন নতুন উপাচার্য। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জামালপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষকে কমিউনিটি সার্ভিস দেওয়ার জন্য আমরা কিছু শিক্ষা ও কারিগরি প্রোগ্রাম হাতে নেওয়ার কথা ভাবছি। সবার সঙ্গে আলোচনা করেই এগুলো করা হবে। বাংলাদেশের মানুষের ট্যাক্সের টাকায় এসব বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, তাই সাধারণ মানুষ যেন এর সুফল পায়, সেভাবেই আমরা চিন্তা করব।’
প্রতিষ্ঠার আট বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) পাস না হওয়ার বিষয়েও কথা বলেন নতুন উপাচার্য। এই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে আপ্রাণ চেষ্টা করব। আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা সাথে থাকবেন, তাহলে কাজগুলো আরও সহজ হবে।’




