বাল্যবিবাহ-শিশুশ্রম প্রতিরোধে সাংবাদিকদের সাথে এপির মতবিনিময়
স্টাফ রিপোর্টার: বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও শিশুদের স্কুল থেকে ঝরে পড়া প্রতিরোধে গণমাধ্যমের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জামালপুর পৌর শহরের দেউরপাড় চন্দ্রা এলাকায় উন্নয়ন সংঘের বিটিআরসি হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিনারা পারভীন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব জামালপুরের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর ফারাজী, কোষাধ্যক্ষ ময়না আকন্দ, সদস্য সাইমুম সাব্বির শোভনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী।
সভায় উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশনে মিনারা পারভীন জানান- ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়, যা ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চলবে। শুরুতে লক্ষীরচর ও শরীফপুর ইউনিয়ন এবং জামালপুর পৌরসভার চারটি ওয়ার্ড নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও বর্তমানে ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১০টি ওয়ার্ডে প্রকল্পের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।
মিনারা জানান- বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার শিশুকে নিয়ে কাজ করছে প্রকল্পটি। শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়া ও ঝড়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত পাঠদানে সম্পৃক্ত রাখা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকদের সচেতন করতে ধারাবাহিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া হতদরিদ্র পরিবারের শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন দল গঠন করা হয়েছে। জীবিকায়ন কর্মসূচির আওতায় ৩৬০ জন উপকারভোগীর মাঝে নগদ অর্থ ও ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও ৪২০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্র ব্যবসা, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে উপকারভোগী পরিবারগুলোকে বাড়ির আঙিনায় দেশীয় সবজির বাগান স্থাপনে উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন- শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ এবং শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া দেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা। এসব সমস্যা দূর করতে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।




