ভিসার নিয়মে কেন হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনল ভারত?
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদি দর্শনার্থী ও চিকিৎসা-প্রার্থীদের জন্য ভিসার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫’ সংশোধন করে সম্প্রতি এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।
কিন্তু কেন হঠাৎ করে এই নিয়মে এত কড়াকড়ি আরোপ করল ভারত সরকার? এর পেছনে রয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার বড় কিছু কৌশলগত কারণ।
হঠাৎ নিয়ম পরিবর্তনের কারণ কী?
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর রিয়েল-টাইম নজরদারি জোরদার করা এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধ করতেই হঠাৎ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অনেক বিদেশি নাগরিকই ট্যুরিস্ট বা মেডিকেল ভিসায় ভারতে গিয়ে নিয়মের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং এভাবে অবৈধভাবে থেকে যাওয়া বিদেশিদের নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করতেই এই আইনি সংশোধন।
নিয়মে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?
আগে কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতে একটানা ১৮০ দিন থাকার পর নিবন্ধন করার জন্য আরও ১৪ দিনের অতিরিক্ত সময় (গ্রেস পিরিয়ড) পেতেন।
এখন সেই ১৪ দিনের অতিরিক্ত সময় বাতিল করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১৮০ দিনের বেশি থাকতে চাইলে সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, কোনো বিশেষ বা জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া এখন থেকে ১৮০ দিনের বেশি অবস্থানের অনুমতি কোনোভাবেই দেওয়া হবে না।
ভোগান্তি কমাতে উদ্যোগ
নিয়ম কঠোর করার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা আনতে ডিজিটাইজেশনের ওপর জোর দিয়েছে ভারত সরকার। এর ফলে বিদেশি নাগরিকেরা কিছু সুবিধাও পাবেন:
অনলাইন আপিল: কোনো বিদেশি নাগরিকের ভিসা বা অবস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে, তিনি এখন ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের গভর্নরের কাছে সরাসরি অনলাইনে আপিল করতে পারবেন।
৬০ দিনের ডেডলাইন: আগে এই আপিল নিষ্পত্তিতে মাসের পর মাস সময় লেগে যেত। কিন্তু নতুন নিয়মে কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে।
সহজ হলো শিশুদের নাগরিকত্ব নিয়ম
আইনে কড়াকড়ির পাশাপাশি একটি ক্ষেত্রে স্বস্তিও দেওয়া হয়েছে। ভারতে বিদেশি দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নিয়ম আগের চেয়ে সহজ করা হয়েছে। যদি নবজাতক শিশুর বাবা-মায়ের যে কোনো একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং শিশুটি ভারতের নাগরিকত্ব বজায় রাখে, তবে ইমিগ্রেশনে তার আলাদা করে জন্ম নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
সূত্র: এনডিটিভি, গালফ নিউজ




