চাঞ্চল্যকর চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার রায় আগামীকাল
এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চাচা ও ভাতিজা হত্যা মামলার রায় আগামীকাল ১২ আগস্ট ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
দীর্ঘ প্রায় ১০ বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে নিহত মহর আলী ও স্বপন মিয়ার পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে বলে প্রত্যাশা তাদের।
নিহত মহর আলী (১৭) আদারভিটা ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার আব্দুস সালাম দফদারের ছেলে এবং মির্জা আজম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার ভাতিজা স্বপন মিয়া (১৬) একই এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে এবং সানাইবান্দা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্র।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হওয়া এক সংঘর্ষের মামলায় আদারভিটা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করতে যায় পুলিশ। পথ চিনতে না পেরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা মহর ও স্বপনের কাছে মোস্তফার বাড়ির অবস্থান জানতে চায় তারা। তাদের দেখিয়ে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রতিশোধ নিতে এই দুজনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মোস্তফা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই বছরের ১৬ মে রাতে গানবাজনার কথা বলে সাখাওয়াত ও সোহেল নামে দুই আসামি চাচা ও ভাতিজাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর জোড়খালী ইউনিয়নের কুকুরমারী এলাকার ভানু ফকিরের পাটখেতে নিয়ে দুজনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর পাটখেত থেকে তাদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত স্বপনের বাবা জাহাঙ্গীর আলম ২২ জনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ১৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং প্রমাণের অভাবে বাকি আটজনকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। বর্তমানে ওই ১৪ জন আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
নিহত মহরের ভাই জোবাইদ আলম এবং মামলার বাদী জাহাঙ্গীর আলম জানান- মহর ও স্বপন কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। তারপরও তাদের রাজনৈতিক কর্মী সাজিয়ে একসময় মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছিল, যা পরিবারটিকে গভীরভাবে হতাশ করে। তারা এখন কেবল আদালতের কাছে খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন, যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জামালপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আসমাউল আসিফ বলেন- অত্যন্ত নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে পরিবারটি রায়ের অপেক্ষায় আছে। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবেন, এটাই সবার প্রত্যাশা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলাম জানান- মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। জামালপুরের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ১২ আগস্ট রায় ঘোষণার সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করেছেন। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ আশাবাদী।




