মেলান্দহ

অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও বেতন নেওয়ার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার চরবানিপাকুড়িয়া ইউনিয়নের রায়ের বাকাই এলাকার নাছিমা মোজাহারুল টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদান না করার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে-অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কলেজে অনুপস্থিত। তিনি জামালপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও তিনি নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ভর্তি দেখানো হলেও বাস্তবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই। শিক্ষক-কর্মচারীরাও নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।

রায়ের বাকাই এলাকার বাসিন্দা হৃদয় আহমেদ বলেন, “কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেখে আসছি এখানে শিক্ষার্থী থাকে না। শুধু কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী দেখানো হয়, কোনো ক্লাস হয় না। শিক্ষকরাও অনিয়মিত। এমন পরিবেশে কীভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চলতে পারে?”

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহনাজ পারভীন বলেন, “যাতায়াতের কারণে মাঝে মাঝে একটু দেরি হলেও আমরা নিয়মিত কলেজে আসি। তবে অধ্যক্ষ স্যারের অনুপস্থিতির বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না, তিনি আমাদের প্রধান।”

অধ্যক্ষ মো. আলমগীর হোসেন আত্মগোপনে থাকায় অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মেলান্দহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আজাদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল আরা বলেন, “অধ্যক্ষের দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়ে বিধি মোতাবেক দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Related Articles

Back to top button