পরীক্ষা চলাকালেও বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক: ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ফুলজোড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা চললেও বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিয়াদুল ইসলাম। প্রায়ই দেরিতে বিদ্যালয়ে আসা এবং দুপুরের আগেই বিভিন্ন অজুহাতে চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষকের এমন দায়িত্বহীনতায় বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়- পরীক্ষা চললেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে নেই। জানা যায়, সেদিন দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরীক্ষা থাকলেও তিনি সকাল ১১টার দিকেই অফিসের কাজের কথা বলে চলে যান। আগের দিন সোমবারও তিনি দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার জানায়, তাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঠিকমতো বিদ্যালয়ে থাকেন না এবং বাকি দুজন শিক্ষকই মূলত তাদের ক্লাস নেন।
বর্তমানে সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান ও মোছা. মহসিনা আক্তার নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন।
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ৮৮ বছরের পুরোনো এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকে মাত্র ৫০ জনের মতো।
বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষকের মধ্যে একজন সাময়িক বরখাস্ত থাকায় এমনিতেই শিক্ষকের সংকট রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের এমন অনিয়ম শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। প্রতি বছর বিদ্যালয়টি স্লিপের বরাদ্দ পেলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ করা হয়নি।
সহকারী শিক্ষকরা জানান, স্লিপের টাকা কীভাবে ব্যয় করা হয় সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না, সবকিছু প্রধান শিক্ষক একাই নিয়ন্ত্রণ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রিয়াদুল ইসলামের স্ত্রী মাদারগঞ্জ উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী। স্ত্রীর রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে তিনি বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনে এমন গাফিলতি করার সুযোগ পাচ্ছেন বলে দাবি তাদের।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিয়াদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে জেনে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। তবে এই বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা তিনি স্পষ্ট করেননি।




