বকশীগঞ্জ

মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ৬ দোকান পুড়ে ছাই

মতিন রহমান, বকশীগঞ্জ: জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে মার্কাজ মসজিদ সংলগ্ন মার্কেটে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পরপরই মার্কেটের রিপন মোদকের মুদিদোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে আগুন নেভানোর আগেই দোকান ও ভেতরে থাকা সমস্ত মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে হোটেল জমজম, ভাই ভাই বেডিং হাউজ ও তুলার দোকান, ইমন স্টোর ও এর গোডাউন, জহির বেডিং স্টোর, মুসলিম ভ্যারাইটিজ প্লাস্টিক স্টোর, হাসান ফল ভাণ্ডার এবং হুসাইন দই চিড়া ঘর।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রিপন মোদক জানান, আগুনে তাঁর দোকানের নগদ আড়াই লাখ টাকাসহ প্রায় ৭০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

এ ছাড়া ব্যবসায়ী শাহীন মিয়ার নগদ টাকাসহ ১০ লাখ এবং হোটেল জমজমের মালিক মানিকের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চোখের সামনে সর্বস্ব হারিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন দিশেহারা।

খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর এবং সাবেক মেয়র নজরুল সওদাগরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারিভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিষয়টি অবগত আছেন এবং তারা ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button