মাদারগঞ্জপ্রধান খবর

সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে ঘিরে বিতর্ক

মাদারগঞ্জের সমবায় কেলেঙ্কারি

এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মাহাবুব আলম রতন উপজেলার চর গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

স্থানীয়রা জানান- গত ২২ জুন সমবায় সমিতির আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে আন্দোলনরত গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নেন মাহাবুব আলম রতন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আন্দোলনকারীদের উসকে দিয়ে উপজেলা পরিষদ ঘেরাও কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করেন এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন।

এদিকে, ২৩ জুন সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা সংবলিত তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশের পর উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা আরো জানান- ২৩ জুন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা উপজেলা পরিষদ চত্বর ঘেরাও করে রাখেন। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। এ সময় আন্দোলনকারীরা সমবায়ের আমানতের অর্থ ফেরতের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ- মাহাবুব আলম রতন দীর্ঘদিন ধরে সমবায়ের আমানত উদ্ধারের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। একই সঙ্গে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি ইচ্ছে মতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাহাবুব আলম রতন বলেন- তিনি ইতোমধ্যে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন। তবে সেটি তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নয় বলে দাবি করেন।

রতন বলেন- সমবায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি ‘প্রতারক’ ও ‘ডাকাত’ বলেছেন, কিন্তু সরকারি দপ্তরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি।

তবে এ ধরনের বক্তব্যের ভিডিও থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনটি অর্থ উদ্ধার কমিটির সাবেক আহ্বায়ক শিবলুল বারী রাজুর হাতে তুলে দেন।

মাদারগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন- “বিষয়টি জেনেছি। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এসব বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন- সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় একই সময়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা বিধিসম্মত নয়। এটি সরকারি চাকরির শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ঘটনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ প্রদান করেছেন।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button