শিশু সন্তানকে হত্যার দায়ে মা আটক
স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের মেলান্দহে নিজের শিশুর সন্তানকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে পালিয়ে যাবার সময় মা শ্রাবন্তীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।
রোববার সকালে উপজেলার ভাবকী গোয়ালবাড়ী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শ্রাবন্তী বেগম ওই এলকার হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনেরা জানান- প্রায় দুই বছর আগে হুমায়ুন আহমেদের সাথে বিয়ে হয় শ্রাবন্তির । বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য কলহ চলছিলো। রোববার ভোর ৫টার দিকে শ্রাবন্তি তার আট মাস বয়সী ছেলে শাওনকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর স্বজনরা তাদের খুজতে শুরু করেন। পরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরের কাছে শ্রাবন্তী’র স্যান্ডেল দেখতে পান প্রতিবেশীরা। সন্দেহ হলে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর বাড়ির কিছুটা দূরে শ্রাবন্তীকে দেখতে পেয়ে আটক করে স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনেন।
নিহতের স্বজনদের দাবি পরকীয়ার জেড়ে হত্যা করা হয়েছে শিশুটিকে। তবে পুলিশ বলছে তদন্তের পর জানা যাবে সকল তথ্য।
নিহতের স্বজন আনোয়ারা বেগম বলেন- ‘বিয়ের পর থেকেই শ্রাবন্তী এই সংসার করতে চাইত না। আমরা বারবার তাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে এনেছি। বিয়ের আগে থেকেই অন্য একজনের সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। সেই পরকীয়ার বাধা দূর করতেই সে নিজের কোল খালি করে সন্তানকে এভাবে হত্যা করেছে। আমরা এই মায়ের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
নিহতের ফুপু সুমাইয়া বলেন- “গতকাল রাতেও আমি আমার ভাতিজার সাথে খেলা করছি। আজকে দেখি ওর মা ওরে মাইরা ফালাইছে। ওর মা বিয়ের পর থেকেই কোন কাজ করতো না কারো সাথে ঠিক মতো কথা বলতো না। অন্যজনের সাথে সম্পর্ক ছিলো। ভাই এর ফোন দিয়ে কথাও বলতো। আমরা এর সবোর্চ্চ বিচার ফাঁসি চাই।”
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ওবায়দুর রহমান বলেন-“আমাদের কাছে খবর আসার পরেই ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে শিশুর মরদেহ ও তার মা শ্রাবন্তী বেগমকে থানায় আনা হয়েছে। শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হবে। এছাড়াও থানায় শিশুটির বাবা, দাদাসহ স্বজনেরা এসেছেন। আমরা জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর হত্যার আসল কারন ও সকল তথ্য জানতে পারবো।”




