সারাদেশ

দুই বছর পরও পলাতক ৩৪৬ কয়েদি: উদ্ধার হয়নি ১১৪৩ রাউন্ড গুলি

রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর: শেরপুর জেলা কারাগারে হামলার পর পালিয়ে যাওয়া ৫১৮ কয়েদির মধ্যে দুই বছর পরও ৩৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৭২ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। একই সঙ্গে লুট হওয়া অস্ত্রের সবকটি উদ্ধার করা গেলেও ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড গুলির কোনো হদিস মেলেনি।

শেরপুর জেলা কারাগারের জেলার মোহাম্মদ আবদুস সেলিম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মোহাম্মদ আবদুস সেলিম জানান- হামলার সময় লুট হওয়া নয়টি চীনা রাইফেল ও শটগানের সব অস্ত্র উদ্ধার করা গেছে। তবে কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া চীনা রাইফেলের ৮৪৪ রাউন্ড গুলির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এছাড়া লুট হওয়া ৩৩১ রাউন্ড শটগানের গুলির মধ্যে মাত্র ৩২ রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলের ওই ভয়াবহ হামলার ঘটনা স্মরণ করে জেলার উল্লেখ করেন- সেদিন লাঠিসোঁটা ও অন্যান্য অস্ত্রে সজ্জিত একদল হামলাকারী কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কারাগারের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে কারা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।

হামলার সময়কার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে তিনি তুলে ধরেন- সেসময় কারাগারের কম্বল, বালিশ, ফ্যান, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওষুধ, আসবাবপত্র ও বস্তাভর্তি খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এমনকি তৎকালীন জেল সুপার লিপি রানী সাহার সরকারি বাসভবনেও হামলা চালিয়ে মূল্যবান সামগ্রী লুট করেছিল দুর্বৃত্তরা। এসব ক্ষয়ক্ষতি ও মালামাল লুটের ঘটনায় প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পরবর্তীতে ব্যাপক সংস্কার কাজ শেষে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কারাগারটি পুনরায় চালু করা হয়।

জেলার আরও জানিয়েছেন- হামলার সময় কারাগারের সব গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যায়। তবে এক কর্মচারীর কাছে থাকা একটি ল্যাপটপে সংরক্ষিত কারা গোয়েন্দা তথ্যভাণ্ডার বা পিআইডিএফ অক্ষত থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে পলাতক বাকি বন্দিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া গুলি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

Related Articles

Back to top button