জামালপুরপ্রধান খবর

ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার সরকারি চাকরি

স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নিজের স্থায়ী ঠিকানা জামালপুর হলেও, ঢাকার ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চাকরি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে জালিয়াতির মাধ্যমে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পদে চাকরি নেওয়া ওই কর্মকর্তার নাম মো. আতিকুজ্জামান। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

অভিযুক্ত আতিকুজ্জামান জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া এলাকার মো. আশরাফ হোসাইনের ছেলে। বর্তমানে তিনি মেলান্দহ উপজেলায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

অনুসন্ধানে জানা যায়- আতিকুজ্জামান দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাররামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তার বাবা মো. আশরাফ হোসাইন একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল পরিবর্তন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন। এ ছাড়া আতিকুজ্জামানের দুলাভাই মো. লেমন বর্তমানে পাররামরামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি পদে রয়েছেন।

দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ও জেলা কোটার জটিলতা এড়াতে চাকরি নেওয়ার সময় আতিকুজ্জামান ঢাকার একটি ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করেন। নিয়োগপত্রে তার ঠিকানা উল্লেখ করা হয়- বাড়ি নম্বর-৮৫, মোল্লারটেক, ডাকঘর: আশকোনা, থানা: দক্ষিণখান, জেলা: ঢাকা। অথচ তার জাতীয় পরিচয়পত্রে স্থায়ী ঠিকানা দেওয়া আছে- মৌজা/মহল্লা: পাররামরামপুর, গ্রাম: তারাটিয়া, ডাকঘর: তারাটিয়া বাজার উপজেলা: দেওয়ানগঞ্জ, জেলা: জামালপুর।

সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, তৎকালীন সময়ে জামালপুর জেলায় কোটা না থাকায় অসদুপায় অবলম্বন করে ঢাকার কোটা ব্যবহার করতেই তিনি এই জালিয়াতি করেছেন।

শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ অনুযায়ী- ১৯৮৮ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করা আতিকুজ্জামান তারাটিয়া আলহাজ লাল মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৩ সালে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এসএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০০৭ সালে চার বছর মেয়াদি কৃষি ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে তিনি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। এরপর মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ হয়ে বর্তমানে মেলান্দহেই কমর্রত আছেন।

ভুয়া ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আতিকুজ্জামান মোবাইল ফোনে দাবি করেন-“আমি এক সময় ঢাকায় থাকতাম, তাই ওই ঠিকানা ব্যবহার করেছি।” তবে ঢাকায় বসবাস করলেও এনআইডির তথ্যের সাথে কেন অমিল- এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ ছাড়া ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি মন্তব্য করেন- “আমি আগে ছাত্রলীগ করেছি, এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না।” তবে তার পরিবারের সদস্যদের আওয়ামী রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে জামালপুর জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউসূফ আলী জানান- ভুয়া তথ্য বা ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি নেওয়া চরম অপরাধ। সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী এটি সরাসরি চাকরিচ্যুতির যোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি দ-বিধির ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ অনুযায়ী জালিয়াতি ও প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদ- হতে পারে।

এদিকে জালিয়াতির এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ খান-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান- এধরনের কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। যদি অভিযোগ আসে তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে তথ্য গোপনের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।

Related Articles

Back to top button