স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চরম বেহাল ও মানবেতর দশা দেখে গভীর বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। শনিবার বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমার ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এটিই সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা।”
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মন্ত্রী মিল্লাত জানান, ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে বর্তমানে ৮৬৭ জন রোগী ভর্তি আছেন। শয্যা না থাকায় বিপুল সংখ্যক রোগী মেঝে ও করিডোরে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সবচেয়ে অমানবিক বিষয় হলো, ইনকিউবেটরে একটি নবজাতকের জায়গায় তিনটি করে শিশু রাখা হয়েছে। চারদিকের নোংরা পরিবেশ এবং ২০২১ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা একটি ভবনে এখনও চিকিৎসাসেবা চলার দৃশ্য দেখে তিনি অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হন। দেশের আর কোথাও হাসপাতালের এমন হযবরল অবস্থা তিনি দেখেননি বলে মন্তব্য করেন।
হাসপাতালের এই করুণ পরিস্থিতির কারণ হিসেবে বিগত সরকারের দুর্নীতিকে দায়ী করেন মন্ত্রী। মিল্লাত জানান, এখানে একটি মেডিকেল কলেজ এবং ৫০০ শয্যার নতুন হাসপাতাল তৈরির কথা ছিল। ১০ তলা বিশিষ্ট ভবনের ৬ তলার টেন্ডারও হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী এবং ঠিকাদারের মধ্যে অপপ্রভাব ও অনৈতিক আর্থিক সমঝোতা না হওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়। এমন নিকৃষ্ট কাজ কেবল বিগত সরকারের আমলেই সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় বিগত সরকারের আমলের বিদ্যুৎ খাতের চরম অব্যবস্থাপনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট করা হলেও সময়মতো চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ এর মতো অবকাঠামো তৈরি করা হয়নি। দেশকে একটি ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে যাওয়া হলেও বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দ্রুত গতিতে এফএসআরইউ ও এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ চলছে। ফলে আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট সমাধান করা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




