সারাদেশ

চরাঞ্চলে ব্রিজ ও বন্যামুক্ত রাস্তার দাবিতে মানববন্ধন

রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর: শেরপুর সদর উপজেলার কামারের চর ইউনিয়নের উন্নয়নবঞ্চিত চরাঞ্চলে ব্রিজ ও রাস্তার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এলাকাবাসী।

১৯ এপ্রিল রবিবার দুপুরে ৬নং চর, পয়স্তীরচর ও গোয়ালপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

রবিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে দশানী নদীর পাড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকার বাসিন্দারা। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. নওয়াব আলীর সভাপতিত্বে ও শফিউল ইসলাম শফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে চর এলাকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও ছাত্র, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বক্তব্য রাখেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।

বক্তারা জানান- শেরপুর শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরত্বের ৬ নং চর, গোয়ালপাড়া, পয়স্তীরচরসহ ৪টি গ্রামে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। অবহেলিত এই চরাঞ্চলে অর্ধ লক্ষ মানুষের বসবাস থাকলেও যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ছয় মাস থাকে পানির নিচে। জেলা সদরের দুর্গম চরাঞ্চলের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে দশানী ও ব্রক্ষপুত্র নদী। যা গ্রামগুলোকে বিভক্ত করে রেখেছে। কামারেরচর বাজার থেকে মাত্র সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে হলেও এই গ্রাম গুলোতে পৌঁছানো যেন এক দুঃসাহসিক যাত্রা। প্রয়োজন অন্তত তিনটি সেতুর। কিন্তু নেই একটিও। এতে বড় ভোগান্তিতে আছে দশানী নদীর দুই পাড়ের মানুষ।

বক্তারা আরো জানান- এদিকে বর্ষা এলেই দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। চার থেকে দশ ফুট পানিতে তলিয়ে যায় পুরো রাস্তা। তখন চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে চলতে হয় ভ্যান কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। যা সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাধীনতার পর থেকে নানা আশ্বাস মিললেও, আজও হয়নি একটি টেকসই রাস্তা ও সেতু। সেইসাথে বন্যায় প্রতিবছর শত শত বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয় বাঁধের অভাবে। চরাঞ্চলটি সবজির ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে ফসল ঠিকমতো বাজারে নিতে না পারায় লোকসান গুনছে কৃষক। সেই সাথে নদীর ওপারের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। তাই রাস্তা ও ব্রীজের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেন এলাকাবাসী।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করে ব্রিজ ও সড়কের গুরুত্ব তুলে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের দৃষ্টিতে আনার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

আর এলজিইডি শেরপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন- চরাঞ্চলের মানুষদের দাবির প্রেক্ষিতে মাঠ পর্যায়ের জরিপ কাজ শেষ হয়েছে। এখন নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শুরু করা হবে।

অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত একটি সেতু এবং বন্যা উপযোগী টেকসই রাস্তা তৈরি করতে পদক্ষেপ নেবে সরকার, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

Related Articles

Back to top button