বকশীগঞ্জ

মিষ্টি-মুড়িতে চেতনানাশক খাইয়ে বাক প্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা- থানায় অভিযোগ

ম‌তিন রহমান, বকশীগঞ্জ: জামালপুরের বকশীগঞ্জে মিষ্টি ও মুড়ির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে এক বাকপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে (২৭) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৯ জুন) রাত দুইটার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবার বকশীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মো. ফারুক (৩৮)। তিনি বকশীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ পলাশতলা গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান- গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় প্রতিবেশী ফারুক কৌশলে মিষ্টি ও মুড়ির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দিনমজুর ও তাঁর বাকপ্রতিবন্ধী স্ত্রীকে খাইয়ে দেন। এরপর ওষুধের কার্যকারিতা শুরু হতে থাকলে ফারুক কৌশলে দিনমজুরকে টেলিভিশন দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে নিয়ে যান। সেখানে দিনমজুর অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে ফারুক নিজেই তাঁকে ধরে বাড়িতে নিয়ে আসেন। অচেতন স্বামীকে বিছানায় শুইয়ে দেওয়ার সুযোগে পাশের ঘরে থাকা গৃহবধূর ওপর তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ফারুক ঘর থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার সময় বাড়ির উঠানে গৃহবধূকে অসুস্থ ও অর্ধ-অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই । তিনি জানান- সন্ধ্যাবেলা ফারুককে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল। তখন সন্দেহ না হলেও ঘটনার পর বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

পরদিন বুধবার সকালে স্বামী-স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। টানা প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অচেতন থাকার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা ওই গৃহবধূকে উন্নত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি সহায়তার জন্য থানায় হাজির হয়।

ভুক্তভোগীর বোন বলেন-আমরা খবর পেয়ে পাশের বাড়ি থেকে এসে দেখি তাঁরা অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। আমরা এই ঘটনার কঠিন বিচার চাই।

বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন বলেন-‘অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করতে আমাদের পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর জবানবন্দি ও ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে-ই হোক, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

Related Articles

Back to top button