জামালপুর

বিচারক দম্পতির বাসায় চুরি: উদ্ধার হয়নি ১৯ লাখ টাকার মালামাল

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বিচারক দম্পতির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা। আসামিদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ঘটনার দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও চুরি হওয়া প্রায় ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মেলান্দহ সিভিল জজ আদালতের বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল এবং দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক নুসরাত জেরিন জেনি জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।
গত ৩০ জুন বিকেলে স্ত্রীকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে বাসা থেকে বের হন বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল। রাতে ফিরে তিনি বাসার দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ অর্থ, একটি হীরার আংটি, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি করে নিয়ে গেছে। মামলায় চুরি যাওয়া মালামালের মূল্য ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পরদিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় মামলা করেন।

তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২), সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম (৩০), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া (৩৯) এবং কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯)।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক এবং নাজমুল ইবনে হোসেন বিপ্লব সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন আসামি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া একজন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে চোরাই মালামাল উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো চক্র জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ কিংবা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মামলার বাদী এ কে এম ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বলেন- “স্যারদের বাসায় চুরি হওয়ার ২ সপ্তাহ অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট থেকে এখন পর্যন্ত আশানুরূপ কোন ফলাফল পাইনি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ০৭ দিনের রিমান্ড শেষে আজকে আসামীদের আদালতে হাজির করেন। আসামীরা সবাই ধরা পরেছে। চুরির সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতাও অনেকটা স্পষ্ট তারপরও চোরাই মালামাল উদ্ধার না হওয়া পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং গাফিলতির সামিল। আমি দ্রুত মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করছি।”

এ বিষয়ে জানতে জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদকে ফোন করা হলে তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) করছে। তবে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কাইয়ুমকে বেলা ১টার দিকে তিনবার ও রাত ৮টার দিকে একবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Related Articles

Back to top button