মেলান্দহ

জাবিপ্রবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত: শিক্ষাঙ্গন রাজনীতি মুক্ত রাখার আহ্বান

মো. মিরাজুল ইসলাম, জাবিপ্রবি: যথাযোগ্য মর্যাদায় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) বুধবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী এই আয়োজনের মধ্যে ছিল স্মরণ র‍্যালি, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, শহিদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান এবং আলোচনা সভা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল। বক্তব্যে তিনি শিক্ষাঙ্গনকে সব ধরনের দলবাজি ও নোংরা রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার জোরালো আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়কে জামালপুরবাসীর গৌরবের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে বক্তব্যের বিষয়বস্তু ও ধরন কেমন হওয়া উচিত, তা সবার বিবেচনায় থাকা দরকার।

অনুষ্ঠানে এক শিক্ষকের দলীয় স্লোগান দেওয়ার কড়া সমালোচনা করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, সামনে শহিদ পরিবারের সদস্যরা বসা আছেন, তাই পরিবেশটি আরও ভাবগম্ভীর হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশটাকে বদলে দেওয়ার জন্যই এত রক্তদান ও আত্মদান হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠাকে তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের ব্যবস্থা রেখেছেন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করা জাবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেন এই বাজেটের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একইসঙ্গে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, নয় বছর বয়সী এই বিশ্ববিদ্যালয়টি মেধা, মনন ও বিজ্ঞান চর্চার জায়গা হলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।

এদিকে আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক ড. আল মামুন সরকার বক্তব্য রাখায় তা উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি কাড়ে। তবে প্রধান অতিথির কাছে অপমানিত হয়ে তাকে দ্রুত মঞ্চ থেকে নেমে আসতে হয়।

এদিন সকালে ক্যাম্পাসে একটি স্মরণ র‍্যালির মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে আলোচনা সভার শেষে অনুষ্ঠিত হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষে অভ্যুত্থানে শহিদ চারজনের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় শহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন জাবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান মো. সিজার রহমান। এছাড়াও মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল আলম মঞ্জু, মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ জাবিপ্রবি ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতারা বক্তব্য রাখেন।

সবশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

Related Articles

Back to top button