শেরপুরে খাল পুনঃখননে সাশ্রয় দেড় কোটি টাকা
রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর: শেরপুরে দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শতভাগ শেষ করে অব্যয়িত ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ২১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সদর ও নকলা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বাস্তবায়িত প্রকল্প দুটিতে মোট ৭ দশমিক ৭২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননে বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি ৩৭ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি অর্থের অপচয় রোধ ও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে এই অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সরকারি সব প্রকল্পে এ ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সদর উপজেলার কামারেরচর ইউনিয়নের সাহাব্দিরচর থেকে কামারেরচর বাজারের পাশ দিয়ে পয়েশ্চিতচর পর্যন্ত ৪ দশমিক ২২৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। কাজ শেষে এ প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ৩৮৭ টাকা।
খালের দুই পাশে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া, বকুল, জারুল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল ও যোগাযোগের সুবিধার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ১৬০টি রিং কালভার্ট, তিনটি কাঠের সেতু ও তিনটি ইউ-ড্রেন।
শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক বলেন- খাল পুনঃখননের ফলে কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। এতে কৃষিজমিতে সেচের পানি সরবরাহ সহজ হবে এবং জলাবদ্ধতা কমবে। পাশাপাশি খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণ পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে নকলা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাঠাকাটা ইউনিয়নের বুরোডুবি কামরুলের বিলের সামনে থেকে গোদাডাঙ্গা হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। কাজ শতভাগ শেষ হওয়ার পর অব্যয়িত ৭৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৩২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রিং কালভার্ট ও পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।
নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পুনঃখনন করা খালটি পাঠাকাটা ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার একর কৃষিজমির জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগে এসব জমিতে এক ফসল হতো। এখন অনেক জমি দুই ফসলি জমিতে রূপান্তর হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার কৃষক উপকৃত হবেন।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, খাল পুনঃখনন সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর একটি। জেলায় দুটি খালের পুনঃখননের কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রকল্প শেষ হওয়ার পর স্থানীয় মানুষ এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের ফলে পরিবেশের সৌন্দর্য ও ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বর্তমানে খালে নৌকা চলাচল করছে এবং দেশি মাছও পাওয়া যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে খালের মাধ্যমে পানি দ্রুত নদীতে নেমে যাওয়ায় বাড়িঘর ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমবে। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকটও অনেকটা কমে আসবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, দুই প্রকল্পের অব্যয়িত প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার একটি ভালো দৃষ্টান্ত। এতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে।




