
স্টাফ রিপোর্টার: হত্যা মামলার আসামি ও পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক আপন ভাইকে বাঁচাতে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মানিক সওদাগর। ছাত্র আন্দোলনে সশস্ত্র হামলার সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ভাই নজরুল ইসলাম সওদাগরের পক্ষে সাফাই গাওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় জেলা জুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বকশীগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মানিক সওদাগর এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেন, তার ভাই নজরুলের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দলের ভেতরের বিরোধীদের সতর্ক করে তিনি জানান, যারা এখনো ভালো হননি, তারা যেন দ্রুত ভালো হয়ে যান।
বকশীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম সওদাগরের বিরুদ্ধে গত ৪ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর চাইনিজ কুড়াল নিয়ে হামলার অভিযোগ রয়েছে। ওই দিনের হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে তিনি তিনটি হত্যা মামলার আসামি।
এমন গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও ভাইকে নির্দোষ দাবি করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তিনি দাবি করেন, বিগত সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের পরামর্শেই নজরুল আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। তাকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে দাবি করে মানিক সওদাগর বলেন, বকশীগঞ্জে বিএনপিকে নজরুলই টিকিয়ে রেখেছেন। কোনো বিএনপি নেতাকর্মীর ক্ষতি তিনি করেননি বলেও চ্যালেঞ্জ ছোড়েন এই নেতা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিক সওদাগরের ছোট ভাই নজরুল ইসলাম সওদাগর ২০১৫ সালের ১২ জুন উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরে তিনি বকশীগঞ্জ পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক হন। ২০১৯ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বকশীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় খয়ের উদ্দিন মাদ্রাসা মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে কয়েকজন সহযোগীসহ নজরুল ইসলাম সওদাগর উপস্থিত হন। বিষয়টি নজরে এলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এরপর ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নজরুলের গ্রেপ্তারের দাবিতে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মিছিল শেষে তাঁরা থানায় স্মারকলিপি দেন। ১২ আগস্ট রাতে রাজধানীর উত্তরার সাঙ্গাম মোড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা-পুলিশ। একাধিক মামলায় সাত মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান তিনি।
একজন যুবলীগ নেতা ও হত্যা মামলার আসামিকে বাঁচাতে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতার এমন প্রকাশ্য হুমকিতে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা হতবাক হয়েছেন। দলের ভেতরে থেকে আওয়ামী লীগ নেতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় স্থানীয় বিএনপিতে এখন তীব্র সমালোচনা চলছে।
এসব বিষয়ে জামালপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খান সজীব বলেন-“দায়িত্বশীল একটি জায়গা থেকে এধরনের বক্তব্য প্রদান করা তার উচিত হয়নি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানায়। আর পুরো বিষয়টি জামালপুর জেলা বিএনপি কেন্দ্রীয় বিএনপিকে জানাবে। পরে কেন্দ্রীয় বিএনপি সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করবে।”
এসব বিষয়ে জানতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে ফোন দেয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।




