মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন
শফিকুল ইসলাম, জামালপুর: শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের নতুন বাগলগড় এলাকায় আলামিন নামে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে জামালপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শুভ (১৯) ও সম্রাট (২০) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও রশিও জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে জামালপুর পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত ।
পংকজ দত্ত জানান- গত ১৮ মে বিকেলে নতুন বাগলগড় গ্রামের একটি নেপিয়ার ঘাসক্ষেত থেকে মাথাবিহীন অর্ধগলিত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের বাবা মরদেহের পরিহিত পোশাক ও জুতা দেখে ছেলে আলামিনকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় শেরপুর সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই প্রথমে শুভকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সহযোগী সম্রাটকেও আটক করা হয়। পরে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়- নিহত আলামিনের পরিবারের সঙ্গে শুভর পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্কজনিত বিরোধ ছিল। আলামিনের ডিভোর্সি বোনের সঙ্গে শুভর প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে অপমানের প্রতিশোধ নিতে শুভ পরিকল্পিতভাবে আলামিনকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৩ মে শুভ তার বন্ধু শান্তর মোটরসাইকেলে করে আলামিনকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে সম্রাটের সহযোগিতায় প্রথমে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে তাকে অচেতন করা হয়। পরে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত আরো জানান- গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামি শুভ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী শান্তও আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
পিবিআই জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত বলেন- ঘটনার পরপরই একটা টিম গঠন করে তদন্ত শুরু করা হয়। সকলের নিরলস প্রচেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে।




