জামালপুরপ্রধান খবর

ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে ১৬ বছর চাকরি

এম আর সাইফুল: জামালপুর পৌর এলাকার চন্দ্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছাম্মৎ জোবেদা আক্তারের বিরুদ্ধে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০১০ সালে যোগদানের পর থেকে প্রায় ১৬ বছর ধরে তিনি সরকারি বেতন-ভাতা ও পদোন্নতিসহ সব সুবিধা ভোগ করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তার স্বামী মো. শফিকুল ইসলাম পাঠান জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত থাকায়, প্রশাসনিক প্রভাবে বিষয়টি এত বছর আড়ালে ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি-জোবেদা আক্তারের প্রকৃত বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার চেচুয়া এলাকায়। তার বাবার নাম মো. আবুল কাশেম। কিন্তু চাকরির আবেদনে তিনি জামালপুর সদর উপজেলার রানাগাছা ইউনিয়নের একটি ঠিকানা ব্যবহার করেন।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে- ওই এলাকায় জোবেদা আক্তার বা তার পরিবারের কোনো দিন বসবাসের রেকর্ড বা বসতভিটা ছিল না। ফলে নিয়োগের সময় জমা দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ ও স্থায়ী বাসিন্দার প্রত্যয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষিকা জোবেদা আক্তার মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তার স্বামী শফিকুল ইসলাম পাঠান দাবি করেন- “নান্দিনায় জোবেদা আক্তারের বাবার বাড়ি ও জমি রয়েছে, সব তথ্য ঠিক আছে।”

জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন-“সরকারি চাকরিতে মিথ্যা তথ্য বা ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা রাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এ বিষয়ে একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আহসান জানান- বিষয়টি তিনি জেনেছেন। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সচেতন মহল নিয়োগ-সংক্রান্ত নথিপত্র ও স্থানীয় প্রশাসনের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দ্রুত সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

Related Articles

Back to top button