শহীদ সদ্যের শোকাহত পরিবারে তিন সন্তানের আলো: কবর জিয়ারতে যুবদল

হৃদয় আহাম্মেদ শাওন, জামালপুর: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রাণ হারিয়েছিল জামালপুরের সর্বকনিষ্ঠ শহীদ সাফওয়ান আখতার সদ্য। সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি দীর্ঘ এক বছর পর নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে। শোকাহত সেই মায়ের কোলজুড়ে একসঙ্গে জন্ম নিয়েছে তিন সন্তান, যার মধ্যে দুজন মেয়ে ও একজন ছেলে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে শহীদ সদ্য ও শহীদ মো. সুমন হাসানের কবর জিয়ারত করতে গিয়ে পরিবারের এই আনন্দের কথা জানতে পারেন জামালপুর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা খান।
কবর জিয়ারতকালে শহীদ সাফওয়ানের চাচা মো. ওমলউদ্দীন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে পারিবারিক এই খুশির সংবাদ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সদ্যের বাবা আখতারুজ্জামান লিটন প্রতিদিন ছেলের কবরের পাশে এসে কান্নাকাটি করতেন। সন্তান হারানোর কষ্ট কোনোদিন ভোলার নয়। তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে কিছুদিন আগে সদ্যের মায়ের গর্ভে একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম হয়েছে। নতুন এই অতিথিদের ঘিরে তারা আবারও বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
একইসঙ্গে বিগত এক বছরের আক্ষেপও প্রকাশ করেছেন ওমলউদ্দীন। তার ভাষ্য, ভাতিজা শহীদ হওয়ার পর প্রথম দিকে অনেকেই খোঁজখবর নিয়েছিলেন। কিন্তু গত এক বছরে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী তাদের খোঁজ নেননি বা কবর জিয়ারত করতে আসেননি। যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা নিজে এসে কবর জিয়ারত করে খোঁজখবর নেওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা কোনো কিছু চান না, কেবল শহীদদের প্রতি সম্মানটুকু আশা করেন বলে দাবি করেন তিনি।
এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন সোহেল রানা খান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকাকে নিজেদের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। পরে শহীদ সাফওয়ান আখতার সদ্য ও মো. সুমন হাসানের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
৫ আগস্ট ২০২৪, সোমবার। এই দিন দুপুর একটার দিকে বাবার সাথে বিজয় মিছিলে অংশ নিতে বেরিয়েছিলেন শহীদ সদ্য। বাবা ছেলে মিলে হেঁটে হেঁটে চলে গিয়েছিলেন সাভারের পাকিজা স্ট্যান্ডে। বিকেল ৪:১৫টা পর্যন্ত বাবার সাথেই ছিলেন তিনি। এরপর বন্ধুদের সাথে চলে যান সদ্য। পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে ঘাতক পুলিশের গুলি লেগেছে সদ্যর গায়ে। একটা গুলি লেগেছিল ওর হাতে অন্যটা বুকের পাঁজরে। রাত ৯ টা পর্যন্ত সদ্য ফিরে না আসায়; বাবা খুঁজতে খুঁজতে রাত সাড়ে নয়টার দিকে চলে যান এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেই স্ট্রেচারে পড়েছিল ছিলো সদ্যের লাশ। ঘটনাস্থলেই শহীদ হয়ে সাফওয়ান আখতার সদ্য।




