বিনা চিকিৎসায় বাবার মৃত্যু:শোক জয় করে জিপিএ-৫ পেল জেমি
মহসিন রেজা রুমেল, দেওয়ানগঞ্জ: এসএসসি পরীক্ষার মাত্র দুই মাস আগে বিনা চিকিৎসায় মারা যান বাবা। সেই শোক আর অভাবের সংসার পেছনে ফেলে এসএসসিতে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী জেনিয়া আফরিন জেমি।
তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ১ হাজার ১২৮। বাবাকে হারানোর কষ্ট বুকে চেপে এখন সে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
জেমির বাবা জয়নাল আবেদীনের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। সংসারে হাল ধরার মতো উপার্জনক্ষম কেউ নেই। এর ওপর তার আরেক ভাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। ফলে দুই সন্তানের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বাবার মৃত্যুর ঘটনা জেমির মনে গভীরভাবে দাগ কেটেছে। বাবার মতো আর কাউকে যেন চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সেই প্রত্যয় থেকে জেমি চিকিৎসক হতে চায়।
নিজের স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে জেমি বলে- তার বাবা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন। এই কষ্ট সে কখনো ভুলতে পারবে না। সে ডাক্তার হতে চায়, যাতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসা দিতে পারে এবং চিকিৎসার অভাবে কাউকে যেন তার বাবার মতো মারা যেতে না হয়।
মেয়ের সাফল্যে মা বিলকিছ বেগম অত্যন্ত খুশি হলেও ভবিষ্যতের খরচ নিয়ে তিনি চিন্তিত। তিনি জানান- জেমির বাবা বেঁচে থাকলে মেয়ের পড়াশোনা নিয়ে হয়তো এতটা চিন্তা করতে হতো না। এখন সংসারের সব দায়িত্ব তার ওপর। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় মেয়ের স্বপ্ন পূরণ নিয়ে তিনি দারুণ দুশ্চিন্তায় আছেন। তবে সরকারের বা বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে মেয়েটিকে অনেক দূর পর্যন্ত পড়াতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেমির এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জেমির এই ফলাফল তার মেধা, অধ্যবসায় ও দৃঢ় মানসিকতার প্রমাণ। প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জেমি ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন অবশ্যই পূরণ করতে পারবে।




