মাদারগঞ্জ

তেলের দাম বাড়ার গুঞ্জন: ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড়

এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে-এমন আশঙ্কায় জামালপুরের মাদারগঞ্জে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। সম্ভাব্য মূল্য বৃদ্ধির গুঞ্জনে মোটরসাইকেল চালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা আগে ভাগেই জ্বালানি সংগ্রহে ভিড় করছেন।

জানা গেছে- মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই স্থানীয়ভাবে তেলের দাম বাড়তে পারে-এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে মাদারগঞ্জ পৌর এলাকার মেসার্স লাবনী ফিলিং স্টেশন ও তুহিন মৌসুমি ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

স্থানীয়রা জানান- গতকাল পর্যন্ত উপজেলার দুটি ফিলিং স্টেশনেই স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি পাওয়া গেছে। তবে গত রাতে তুহিন মৌসুমি ফিলিং স্টেশনে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ায় আজ লাবনী ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকদের চাপ বেড়ে যায়।

এদিকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে লিটার প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কিছু খুচরা ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।

উপজেলার গোপালপুর এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী সাবুল মিয়া বলেন, “আমরা প্রতি লিটার পেট্রোল ১২৫ টাকা দরে কিনেছি। লাভ ছাড়া তো বিক্রি করা সম্ভব নয়।” তবে কেন বেশি দামে পেট্রোল কিনেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পাম্প থেকে তেল না পাওয়ায় জোনাইল এলাকার একটি ডিলার পয়েন্ট থেকে বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে। যদিও তিনি এ বিষয়ে কোনো ক্রয় মেমো দেখাতে পারেননি।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে- উপজেলার কয়েকটি বিক্রয়কেন্দ্র অধিক মুনাফার আশায় তেল মজুদ করে বিক্রি বন্ধ রেখেছে।

স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “শুনছি তেলের দাম হঠাৎ বাড়তে পারে। তাই আগে থেকেই ট্যাংক ফুল করে রাখছি।”

পরিবহন শ্রমিক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “যদি তেলের দাম বেড়ে যায়, তাহলে পরিবহন ভাড়াও বাড়াতে হবে। তাই এখন যতটা সম্ভব তেল সংগ্রহ করে রাখছি।”

মাদারগঞ্জের মেসার্স লাবনী ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান- সরকারিভাবে এখনো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষণা আসেনি। “আমাদের কাছে যতটুকু মজুত আছে, তা আগের নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি করা হচ্ছে। তবে গুজব ছড়িয়ে পড়া এবং অন্য একটি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় হঠাৎ গ্রাহকের চাপ বেড়েছে। গত দুই দিনে সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি জ্বালানি বিক্রি হয়েছে।”

অন্যদিকে তুহিন মৌসুমি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক বলেন- “চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ডিপো থেকে নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে না। এ কারণে আমাদের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রয়েছে।”

এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেল দিও বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, “বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেউ যদি অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Related Articles

Back to top button