জামালপুরপ্রধান খবর

জলাবদ্ধতায় ডুবছে শহর: কক্সবাজার ‘আনন্দ ভ্রমণে’ পৌর প্রশাসনের ১৫ কর্মকর্তা

স্টাফ রিপোর্টার: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় নাকাল জামালপুর শহরে যখন দূর্ভোগ পোহাচ্ছে হাজার-হাজার মানুষ। ঠিক সেই সময় পৌর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরকারি খরচে কক্সবাজারে ‘আনন্দ ভ্রমণে’ অবস্থানের অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

রোববার (৩ মে) দুপুরে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে শহরের শেখেরভিটা রেলক্রসিং এলাকায় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন পানিবন্দি এলাকাবাসী। এতে দেওয়ানগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার এক্সপ্রেস প্রায় ৪০ মিনিট আটকা পড়ে। অবরোধের কারণে সড়ক যোগাযোগও ব্যাহত হয়, সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এর আগে শহরের বেলটিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন জলাবদ্ধ অঞ্চলের বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বর্ষা মৌসুমেই দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়।

এদিকে জামালপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক মৌসুমি খানম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানসহ প্রায় ১৫ জন কর্মকর্তা বর্তমানে কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, লাইসেন্স পরিদর্শক, পানি ও বাজার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও।

ভ্রমণে থাকা কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন- মৌসুমি খানম (পৌর প্রশাসক), হাফিজুর রহমান (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা), শফিকুল ইসলাম (হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা), শরিফ উদ্দিন (হিসাব সহকারী), নুর মোহাম্মদ (প্রকৌশলী), আকতার হোসেন ও সোহেল (সহকারী প্রকৌশলী), জাহাঙ্গীর আলম ও আল আমীন সুমন (লাইসেন্স বিভাগ), শফিকুল আলম (পানি বিভাগ), আরিফ হোসেন (বাজার পরিদর্শক), লিয়াকত আলী (কনভারজেন্সি), নুরনবী রতন (কর নির্ধারক), আরিফুল ইসলাম রবিন (সার্ভেয়ার)সহ আরও কয়েকজন।

স্থানীয়দের দাবি- টানা বর্ষণে শহরের নিম্নাঞ্চলগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাসা-বাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ডুবে যাওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। নোংরা ও স্থির পানিতে বসবাস করায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মুন্না, জুয়েল মিয়া, আবুল হোসেনসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা পানির মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছি, আর তারা জনগণের টাকায় ঘুরতে গেছে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

জামালপুর পরিবেশ আন্দোলনের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম জানান- পৌর এলাকার অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার না করে পৌরসভার কর নির্ধারক শফিকুল ইসলাম বলেন- “আমরা ভ্রমণে থাকলেও নিয়মিতভাবে দিক নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কাজ আগের চেয়ে বেশি গতিতে চলছে।”

পৌর প্রশাসক মৌসুমি খানম বলেন, “বৃহস্পতিবার ছুটি নিয়ে কক্সবাজারে এসেছি। মাত্র একদিন কর্মদিবস মিস হয়েছে। সোমবার থেকে অফিসে যোগ দেব।”

তিনি আরও দাবি করেন- ভ্রমণে অবস্থান করেও পৌরসভার কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে এবং শেখেরভিটা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে লোকজন দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

তবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সচেতন মহল মনে করছে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু এমন সময় কর্মকর্তাদের ভ্রমণ জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

Related Articles

Back to top button