মাদারগঞ্জপ্রধান খবর

বাস ধর্মঘট ও সড়ক অবরোধ: স্থবির জনজীবন

এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জে বাস চালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টানা ২৪ ঘণ্টা ধরে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। একই ঘটনায় সোমবার বিকেল থেকে জামালপুর-মাদারগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন বিক্ষুব্ধ পরিবহন শ্রমিকরা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। পূর্বঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

রোববার সন্ধ্যা থেকে মাদারগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। একই সঙ্গে বিকেল থেকে জামালপুর-মাদারগঞ্জ সড়কও অবরুদ্ধ রয়েছে।

পরিবহন শ্রমিকরা জানান- বাস চালকের ওপর হামলার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। দ্রুত অভিযুক্ত সোহেল রানাসহ অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা।

এদিকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকাগামী যাত্রীরা যেমন দুর্ভোগে পড়েছেন, তেমনি আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান-রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকা গামী রাজিব পরিবহনের একটি বাস গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এনপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বের বিরোধের জেরে কাউন্টার মাস্টার শফিকুল ইসলাম ও রহমতুল্লাহ বাস চালক মমিনুল ইসলামকে মারধর করেন। পরে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী বিজয় আহমেদ বাসটি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে গুনারীতলা ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সোহেল রানার সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বিজয়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।

আহত বিজয়কে প্রথমে মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথায় ছয়টি এবং হাতে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে কাউন্টারে আসা রুবেল বলেন- “ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরব। কাউন্টারে এসে দেখি বাস বন্ধ। এখন বাড়িতে ফিরে যেতে হচ্ছে। এদিকে আমার ছুটিও শেষ।”

আব্দুল্লাহ নামে আরেক যাত্রী বলেন- “জরুরি কাজে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কাউন্টারে এসে শুনি বাস চলবে না। আবার জামালপুর হয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়েছে। এখন কীভাবে যাব, বুঝতে পারছি না।”

অভিযুক্ত কাউন্টার মাস্টার শফিকুল ইসলাম বলেন- “শনিবার রাতে নির্ধারিত সময়ে বাস না আসায় আমার যাত্রীদের বিকল্প বাসে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে রাত দেড়টার দিকে বাসটি আসে। তখন সুপারভাইজার আমাকে ফোন দিলে আমি জানাই, যাত্রীরা অন্য বাসে চলে গেছেন। যাত্রী না পেয়ে বাসচালক আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। এ ঘটনার জবাব চাইতে রোববার সন্ধ্যায় তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি আমাকে ধাক্কা দেন। পরে আমি তাকে একটি থাপ্পড় দিই। এরপর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই।”

বিএনপি নেতা সোহেল রানা বলেন- “সড়কের মধ্যে বাস দাঁড়িয়ে থাকায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। বাস সরাতে বললে বিজয় আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”

মাদারগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ মাখন বলেন, “ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীষ রায় বলেন- “বাস চালক মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

বাস চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন-“পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন কাজ করছে। দ্রুত বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

Related Articles

Back to top button