শেরপুর মেডিকেল কলেজ স্থাপনে সম্ভাব্য ৬ স্থান পরিদর্শন: সিদ্ধান্ত যাবে সরকারের কাছে
রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর: শেরপুরে প্রস্তাবিত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য নির্ধারিত সম্ভাব্য স্থানগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।
সোমবার দুপুরে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও পরিদর্শন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফারুক আহম্মদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি শেরপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য প্রস্তাবিত ছয়টি স্থান পরিদর্শন করে।
পরিদর্শন দলে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিনের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল হক, জামালপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ, বিএমডিসির মনোনীত প্রতিনিধি অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের প্রতিনিধি মো. মকবুল হোসেন এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. ওয়াসেক-বিন-শহীদ।
এ সময় শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেলিম মিঞা, প্রেসক্লাব সভাপতি কাকন রেজাসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের জন্য মোট ছয়টি স্থান বিবেচনায় রয়েছে। এগুলো হলো নৌহাটার খোয়ারপাড়, ঢাকলহাটি, নৌহাটার অর্কিড এলাকা, শেরীব্রিজ-লছমনপুরের পূর্বপাশ, শেরীব্রিজ-লছমনপুরের পশ্চিমপাশ এবং মোবারকপুরের ইছলিবিল এলাকা।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নৌহাটা খোয়ারপাড় ও অর্কিড এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ২১৩ কোটি ৫৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা করে। ঢাকলহাটি এলাকার সম্ভাব্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০৪ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
এ ছাড়া শেরীব্রিজ-লছমনপুরের পূর্বপাশের জমির সম্ভাব্য মূল্য ৮০ কোটি ৭৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা এবং পশ্চিমপাশের মূল্য ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। মোবারকপুরের ইছলিবিল এলাকার সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক ডা. ফারুক আহম্মদ সাংবাদিকদের বলেন, মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য এমন একটি স্থান নির্বাচন করা হবে যেখানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সবচেয়ে উপযোগী হবে।
তিনি জানান, পরিদর্শন শেষে কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সার্বিক বিবেচনায় সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
শেরপুরে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ শুরু হওয়ায় জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মেডিকেল কলেজটি বাস্তবায়িত হলে শেরপুরের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলার বাসিন্দারাও তুলনামূলক কম খরচে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। একই সঙ্গে জেলার স্বাস্থ্যখাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।




