ব্র্যাকের গ্রাহকদের ১০ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও নারী মাঠ কর্মী
এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জে ব্র্যাকের এক নারী মাঠ কর্মীর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ১০ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত মাঠকর্মীর নাম আশা আক্তার। তিনি ব্র্যাকের মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সিডিও (CDO) হিসেবে মাদারগঞ্জ শাখায় কর্মরত ছিলেন।
গত ২৪ জুন থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় ব্র্যাকের মাদারগঞ্জ শাখা কর্তৃপক্ষ মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।
শুক্রবার বিকেলে প্রতারিত গ্রাহকদের অনেকে থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছ থেকে জানা গেছে- আশা আক্তার পৌর শহরের গাবেরগ্রাম, বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া, গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী এবং পৌর শহরের বালিজুড়ী পূর্বপাড়া এলাকার ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের দায়িত্বে ছিলেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ- গত দুই মাসে তিনি শতাধিক সদস্যকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার পর প্রত্যেকের কাছ থেকে ঋণের প্রায় অর্ধেক অর্থ ব্যক্তিগতভাবে ধার নেন। এছাড়া, এক লাখ টাকা ঋণ পাওয়া কয়েকজন সদস্যের কাছ থেকে উচ্চ মুনাফায় বিনিয়োগের আশ্বাস দিয়ে ৫০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন। এভাবে বিভিন্ন কৌশলে তিনি ১০ লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
জানা যায়- আশা আক্তার বালিজুড়ী বাজারের লুলু হাজীর বাসায় স্বামী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকতেন। কয়েক দিন আগে পদোন্নতি ও বদলির কথা বলে বাসার সব আসবাবপত্র সরিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। তাঁর বাবার বাড়ি দেওয়ানগঞ্জ এবং স্বামীর বাড়ি মেলান্দহ উপজেলায় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী সাহিদা আক্তার বলেন- “আশা আক্তার ও তাঁর মা জমির দলিল করার কথা বলে আমার কাছ থেকে নগদ তিন লাখ টাকা নিয়েছেন। সরল বিশ্বাসে ধার দেনা করে টাকা দিয়েছিলাম। এখন আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমি আমার টাকা ফেরত চাই।”
এ ছাড়া পাখিরন, আল্পনাসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন গ্রাহকও বিভিন্ন কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
তাঁদের দাবি, সব মিলিয়ে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ১০ লক্ষাধিক টাকা।
বাসার মালিক লুলু হাজীর জানান- আশা নামে মেয়েটি আমার বাসায় ভাড়া থাকতো, সে তাড়াহুড়ো করে বাসা ছেড়ে চলে যান। এর আগে তিনি এই এলাকার নিরীহ মহিলাদের থেকে লাখ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন।
এ বিষয়ে ব্র্যাক মাদারগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক মাজহারুল আলম বলেন, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা আক্তারের সন্ধানে চেষ্টা চলছে।”
ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়কারী (ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর) জানান- ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে গ্রাহকদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে ব্র্যাক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, “এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




