জামালপুরইসলামপুরদেওয়ানগঞ্জপ্রধান খবরবকশীগঞ্জসরিষাবাড়ী

জামালপুরে ছয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য

ফিরোজ শাহ,জামালপুর: জামালপুর জেলায় এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে দুটি উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি দাখিল মাদ্রাসা এবং দুটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমন হতাশাজনক ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা, সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ মহিলা টেকনিক্যাল ও বিএম কলেজ এবং সানন্দবাড়ী টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট।

এই ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে এবার মোট ৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে ইসলামপুর উপজেলার বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৮ জন ও কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন, বকশীগঞ্জ উপজেলার শেফালী মফিজ মহিলা মাদ্রাসা থেকে ১৪ জন এবং সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থী ছিল। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেওয়ানগঞ্জের সানন্দবাড়ী টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে চারজন এবং দেওয়ানগঞ্জ মহিলা টেকনিক্যাল ও বিএম কলেজ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। দুঃখজনকভাবে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব শিক্ষার্থীদের ফলাফলে পড়েছে।

তবে কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহর দাবি ভিন্ন। তিনি জানান, বিদ্যালয়টি ২০২৫ সালে পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। শুধু রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষাসংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের জন্য তিনজন শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তাই একে নিয়মিত ব্যাচের ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

সার্বিক বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুর আলম বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি তাদের ফলাফল সত্যিই উদ্বেগজনক। প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এছাড়া সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবীর এবং দেওয়ানগঞ্জের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার সজল কুমার ভদ্র ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে পাওয়ার পর তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

শিক্ষার এমন বেহাল দশায় উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। তারা অবিলম্বে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক সংকট দূর করা এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বছর জামালপুর জেলার ৮৫টি কেন্দ্রে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট ৩৯ হাজার ৬৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ৩০ হাজার ৭৮ জন, দাখিল ৫ হাজার ৩২১ জন এবং ভোকেশনাল পরীক্ষার্থী ৪ হাজার ২৭৩ জন।

জেলায় এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৬০ শতাংশ।

Related Articles

Back to top button