জামালপুরপ্রধান খবর

জামালপুরে তীব্র গ্যাস সংকট: জ্বলছে না চুলা, থমকে আছে অ্যাম্বুলেন্স

স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরে টানা তিন দিনের তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় যেমন চুলা জ্বলছে না, তেমনি জেলার একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের অভাবে আটকে আছে অ্যাম্বুলেন্সসহ শত শত যানবাহন। গৃহস্থালির স্থবিরতা আর পরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

গ্যাস না থাকায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা। ময়মনসিংহ থেকে জামালপুরে রোগী নামিয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে জাবেদ ফিলিং স্টেশনের সামনে আটকে আছেন চালক বাঁধন মিয়া। তিনি বলেন- “গাড়িতে যে গ্যাস আছে তা দিয়ে ফেরত যাওয়া সম্ভব না। গ্যাস পাওয়ার আশায় বৃহস্পতিবার রাতে এখানে আসছি। গ্যাস না থাকলে যাব কীভাবে? মালিক ফোন দিচ্ছে, কিন্তু গ্যাস ছাড়া তো আর যেতে পারব না।”

এদিকে টানা তিন দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসাবাড়ির গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় গৃহিণীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিকল্প হিসেবে চড়া দামে হোটেলের খাবার বা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছে।

শহরের চামড়াগুদাম এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণা বলেন, “গতকাল সকালে উঠে দেখি গ্যাস নেই, সন্ধ্যার পর এসেছিল। আজকেও একই অবস্থা। তিতাসের উচিত ছিল আগে থেকে মাইকিং করা, তাহলে আমরা প্রস্তুতি নিতে পারতাম।”

জেলার প্রায় ৫ হাজার সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য গ্যাসচালিত যানবাহনের একমাত্র ভরসা জাবেদ ফিলিং স্টেশন। পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় সেখানেও তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন বিপর্যয়।

শুক্রবার ভোর চারটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সিএনজি চালক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোর চারটায় বাসা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হইছি, এখনো বসে আছি। এক টাকাও আয় করতে পারলাম না, উল্টো দেড়শো টাকা খরচ হয়ে গেছে।”

আরেক চালক জসিম উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “সারাদিন পাম্পে বসে থাকলে পরিবার চালাব কীভাবে আর কিস্তির টাকাই বা দেব কেমনে!”

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সড়কেও। যানবাহন কমে যাওয়ায় যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শহরের বাইপাস মোড়ে অপেক্ষারত যাত্রী রাজু জানান, গ্যাসের দোহাই দিয়ে চালকেরা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন, বাধ্য হয়েই তাদের পকেটের অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জাবেদ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আতিক রহমান বাবর জানান- এটি দেশব্যাপী সংকটের অংশ। গ্রিড থেকে গ্যাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা গ্রাহকদের তা সরবরাহ করছেন।

জামালপুর তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ম্যানেজার দুর্জয় খকসী বলেন, “মূল সরবরাহ লাইনে গ্যাস না থাকায় এই সংকট দেখা দিয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

জামালপুর জেলায় তিতাস গ্যাসের মাসিক চাহিদা প্রায় সাড়ে ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনমিটার।

Related Articles

Back to top button