দেশি রান্নার ঐতিহ্য ছড়াতে এলো ‘হোমক্রাফ্ট বাই রুপালী’
স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুরের সরিষাবাড়ী অঞ্চলের সুপরিচিত রাজনৈতিক পরিবারের বধূ মেহরোজা কবীর তালুকদার রূপার (৪৮) দেশীয় রান্না নিয়ে নতুন ফেসবুক পেজ ‘Homecraft by Rupali’ (হোমক্রাফ্ট বাই রুপালী)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের সহধর্মিণী তিনি। আর তার চাচা শ্বশুর প্রয়াত আব্দুস সালাম তালুকদার ছিলেন বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মহাসচিব। চারদিকে এমন রাজনৈতিক আবহে ঘেরা থাকলেও, সম্পূর্ণ নিজস্ব পরিচয়ে রান্নার এক অনন্য সুখ্যাতি রয়েছে রূপা তালুকদারের।
পারিবারিক ব্যস্ততা আর হাজারো অতিথির আনাগোনার মাঝেও তিনি দেশীয় রান্নার ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন পরম মমতায়। বর্তমান সময়ে সচ্ছল পরিবারের নারীদের মধ্যে যখন রেস্তোরাঁ-নির্ভরতা কিংবা রান্নার প্রতি এক ধরনের অনীহা দেখা যাচ্ছে, ঠিক তখনই রান্নার শখকে সৃজনশীলতায় রূপ দিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী সব খাবার নিজে রাঁধেন এবং পরম তৃপ্তিতে তা আপনজন ও অতিথিদের পাতে তুলে দেন।
তার প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় চোখ রাখলে দেখা যায় একাল-সেকালের মেলবন্ধন। উত্তরবঙ্গের বাঘা আইড় মাছের ভুনা, বেগুন-আলুর শুঁটকি, দেশি মুরগির পাতলা ঝোল, গরুর মাংসের ভর্তা, পটল-ইলিশের ঝোল কিংবা মিষ্টি লাউয়ের চাক ভাজা আর দই-বুন্দিয়ার মতো বাহারি দেশীয় খাবারের সুবাস ছড়ায় তার হেঁশেল থেকে। মূল লক্ষ্য একটাই-যান্ত্রিক জীবনের খাদ্যভ্যাস থেকে যেন আমাদের আদি স্বাদ ও উপকরণগুলো হারিয়ে না যায়।
নিজের এই উদ্যোগের বিষয়ে রূপা তালুকদার বলেন- “বাঙালি নারীরা কোনো না কোনোভাবে রান্নার সাথে জড়িত। আমার রান্নার হাতেখড়ি মা, খালা ও দাদি-নানিদের হাত ধরে। কিন্তু বর্তমান কর্মব্যস্ত পরিবেশে আমরা কজনই বা রান্নার প্রতি যত্নশীল? বিদেশি খাবারের সহজলভ্যতা আমাদের দেশীয় খাবারের জায়গাটা দখল করে নিচ্ছে। ফলে আগের প্রজন্মের মতো রান্নার প্রতি সেই চিরন্তন প্রেমটা এখন আর দেখা যায় না। এতে আমাদের খাদ্যের সংস্কৃতি থেকে অনেক ঐতিহ্যবাহী রেসিপি হারিয়ে যাচ্ছে। মূলত এই চিন্তা থেকেই দেশীয় রান্নার প্রতি আমার আগ্রহের জন্ম। আমি চাই এই ভাবনা অন্য নারীদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়ুক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন- আগের প্রজন্মের মানুষজন দেশীয় খাবারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন বলেই তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও পুষ্টির ঘাটতি হতো না। অথচ এখনকার মায়েরা সন্তানদের রেস্তোরাঁর খাবারের প্রতি অভ্যস্ত করে তুলছেন, যা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই সন্তানদের সুস্থতায় মায়েরা যেন দেশীয় খাবারের প্রতি নজর দেন, সেই আহ্বান জানান তিনি। নিজের তিন সন্তানের ক্ষেত্রেও তিনি সবসময় দেশীয় খাবারের অভ্যাস বজায় রেখেছেন।
সংসার জীবনের ২৫ বছর পার করা রূপা তালুকদার তার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্তব্য করেন-পারিবারিক কিংবা অতিথি আপ্যায়নে তিনি সবসময় দেশীয় খাবারকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। বর্তমানে এই রান্নাকে কেন্দ্র করে নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি দাবি করেন- দেশীয় খাবার নিয়ে নতুনরা কাজ করলে আমাদের নিজস্ব স্বাদ কখনো হারিয়ে যাবে না। একই সাথে রান্নার প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানগুলোতে দেশীয় রেসিপিকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন, যাতে তৃণমূলের সৃজনশীল নারীরা তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পান।




