মাদারগঞ্জপ্রধান খবর

এক শিক্ষকেই চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়:ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম চর নাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র একজন। তিনিই একাই শিশুদের পাঠদান, দাপ্তরিক কাজ ও প্রশাসনিক সব দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।

১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন একটি শ্রেণিকক্ষে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পাঠদান করছেন। শিক্ষক সংকটের কারণে আলাদা কক্ষে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের মনোযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় নিজেরাই বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মমিন তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। গত বছর দুজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে তিনি একাই বিদ্যালয়ের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করছেন বলে উল্লেখ করেন। আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও সব শ্রেণিকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তার ভাষ্য।

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম সাদি ও লাবলু মিয়া জানায়, একজন শিক্ষক সব ক্লাস নেওয়ায় তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। চতুর্থ শ্রেণির আল আমিন, আবু বক্কর সিদ্দিক এবং তৃতীয় শ্রেণির বিশাল ও আরিফ উল্লেখ করে, শিক্ষক অন্য ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত থাকলে তাদের নিজেদেরই পড়তে হয় এবং তাৎক্ষণিক কোনো সাহায্য পাওয়া যায় না। দ্রুত নতুন শিক্ষক এলে পড়াশোনার পরিবেশ ভালো হবে বলে তারা বিশ্বাস করে।

এমন পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। শফিকুল ইসলাম নামের এক অভিভাবক মন্তব্য করেন, একজন শিক্ষক দিয়ে একটি সরকারি বিদ্যালয় চালানো অসম্ভব। প্রধান শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে উপজেলা সদরে গেলে বা অসুস্থ হলে বিদ্যালয় বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিশুদের শিক্ষা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

আরেক অভিভাবক মিজানুর রহমান দাবি করেন, শিক্ষক না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে সন্তানদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে বিদ্যালয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে বলে তিনি মনে করেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের কারণ হিসেবে যাতায়াত ব্যবস্থার দুরবস্থাকে দায়ী করেছেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় শিক্ষকরা সেখানে যেতে আগ্রহী হন না বলে তিনি জানান। তবে নতুন নিয়োগ হলে সেখানে শিক্ষক পদায়নের আশ্বাস দেন তিনি।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Related Articles

Back to top button