জন্মের ৭ দিনেই মা,৬ বছরেই বাবা হারায় রাহাত- ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
এম আর সাইফুল, মাদারগঞ্জ: জন্মের মাত্র সাত দিনের মাথায় মা তাকে ছেড়ে চলে যান। এরপর বাবা ও দাদির স্নেহ-ভালোবাসায় বড় হচ্ছিল ছোট্ট রাহাত। কিন্তু সেই আশ্রয়ও আর রইল না। চোখের সামনেই নদীর পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন তার বাবা জুলহাস উদ্দিন। মায়ের স্নেহবঞ্চিত শিশুটি এবার বাবাকেও হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের পোড়াবাড়ি এলাকায়।
নিহত জুলহাস উদ্দিন (৪০) ওই এলাকার মৃত আনার ব্যাপারীর ছেলে। তিনি ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয়রা জানান- শুক্রবার দুপুরে উপজেলার ঝাড়কাটা নদীতে ঘোড়াকে গোসল করাতে যান জুলহাস উদ্দিন। এ সময় তার সঙ্গে ছিল ছয় বছর বয়সী ছেলে রাহাত। একপর্যায়ে তিনি নদীর পানিতে তলিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। শুক্রবার রাতেই জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রাহাত বাবার মৃত্যুর বর্ণনা দিয়ে বলে- “আব্বা ঘোড়া নিয়ে নদীতে নামছিল। পরে হঠাৎ পানির মধ্যে ডুবে যায়। বারবার হাত নাড়াচ্ছিল। আমি অনেক ডাকাডাকি করছি। আব্বা আর উঠে আসেনি।”
পরিবার থেকে জানা গেছে- রাহাতের জন্মের মাত্র সাত দিনের মাথায় তাকে রেখে চলে যান তার মা। এরপর বাবা জুলহাস উদ্দিন ও দাদি জোসনা বেগম অনেক কষ্ট করে তাকে লালন-পালন করছিলেন। বাবাই ছিল রাহাতের একমাত্র ভরসা।
স্থানীয়দের ভাষ্য- এত অল্প বয়সে মা-বাবা হারানো রাহাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশুটির পাশে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
জুলহাসের বৃদ্ধা মা জোসনা বেগম বলেন- “রাহাতের মা জন্মের সাত দিনের সময় ওরে ছাইড়া চইলা যায়। আমার ছেলে অনেক কষ্ট কইরা নাতি ডারে মানুষ করতেছিল। এখন সেই ছেলেও মারা গেল। এত ছোট বাচ্চাডা এখন কারে বাবা ডাকবো?”
প্রতিবেশী সুমন মিয়া বলেন- “জুলহাস ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়েই চলত বৃদ্ধা মা ও শিশু সন্তানের সংসার। তার মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তৌফিকুল ইসলাম খালেক বলেন- “সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে জামালপুর শহরে সরকারি শিশু পরিবারসহ তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাহাতের আত্মীয়-স্বজনরা ইচ্ছুক থাকলে আমরা তার দায়িত্ব নিতে চাই। ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত তার লেখাপড়া, ভরণ-পোষণসহ সব ধরনের দায়িত্বভার সরকারিভাবে বহন করা হবে।”
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন- “ঘটনাটি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সহযোগিতার জন্য লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জামালপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইউসূপ আলী বলেন-“জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে সহযোগিতা করা হবে। এছাড়াও ছেলেটি বা তার পরিবার ইচ্ছুক থাকলে তার লেখাপড়াসহ সরকারিভাবে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”




