সাড়ে ৩ কোটি টাকার সেতুর মুখে মাটি ভরাট: পানি নিষ্কাশনে বাধা

এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর মুখে বালু ও মাটি ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করার অভিযোগ উঠেছে।
আকরামুল কবির নামে এক ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই কাজ করছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। এতে আশপাশের এলাকার ফসলি জমি ও বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রতিকার চেয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন ভুক্তভোগী এক বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয়দের বিবরণ থেকে জানা যায়- উপজেলার ঝাড়কাটা বাজারের উত্তর পাশে ২০২৫ সালে এলজিইডি ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৪ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। এর নিচ দিয়ে পূর্ব দিক থেকে পশ্চিম দিকে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়ে কৃষকদের জমির পানি নিষ্কাশন হতো। কিন্তু নির্মাণের এক বছর না পেরোতেই কয়েক মাস ধরে সেতুর পূর্ব পাশে মাটি ফেলে জমি উঁচু করা হচ্ছে। পানির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ হওয়ায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত পানি চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি উঠেছে।
অভিযুক্ত আকরামুল কবির উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর কবিরের ছোট ভাই।
অভিযোগের বিষয়ে আকরামুল কবির দাবি করেন- তারা নিজেদের জায়গায় মাটি ভরাট করছেন। সেখানে একটি খামার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে তার বড় ভাই উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর কবিরের ভাষ্য- সেতুটির নিচ দিয়ে সাধারণ সময়ে তেমন পানি প্রবাহিত হয় না এবং এটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, নিজস্ব জমিতে খামার করার জন্য মাটি ভরাট করা হলেও বন্যার সময় পানি চলাচলের পথ খোলা রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন- তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী আশ্বাস দিয়েছেন- অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হবে। সরকারি স্থাপনা বা পানির স্বাভাবিক প্রবাহে কেউ বাধা সৃষ্টি করে থাকলে বিধি অনুযায়ী যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি তুলে ধরেন।




