সারাদেশ

পাগল কুকুরের তাণ্ডব: শিশুসহ আহত ২৯

রাকিবুল আওয়াল পাপুল, শেরপুর: শেরপুরের নকলা পৌর এলাকায় দুটি পাগল কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। কুকুরের কামড়ে এ সময় অন্তত ছয়টি গবাদিপশুও জখম হয়েছে। এই ঘটনার পর বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা একটি কুকুর পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে- বুধবার সকালে প্রথমে একটি পাগল কুকুর পৌর শহরের গ্রিনরোড, দড়িপাড়া ও উত্তর কায়দাসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিকভাবে ছোটাছুটি শুরু করে। সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড়ে জখম করেছে কুকুরটি। মাঠে চরে বেড়ানো গবাদিপশুকেও রেহাই দেয়নি সেটি। পরে আরেকটি কুকুরও একইভাবে মানুষকে কামড়ানো শুরু করে। আহতদের মধ্যে গ্রিনরোড ও দড়িপাড়া এলাকার ১৫ জন এবং উত্তর কায়দা গ্রামের ১৪ জন রয়েছেন। আহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী রায়ান ও মীম, নয় বছরের ঝিনুক ও জিহাদ, তেরো বছরের সজিব এবং বিশ বছরের রিয়াজ আহম্মেদসহ বেশ কয়েকজন রয়েছেন।

আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে যাদের আঘাত গুরুতর, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান- হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়েছে। একদিনে কুকুরের কামড়ে এত রোগী হাসপাতালে আসার ঘটনা এর আগে ঘটেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কুকুরের কামড়ের পর ক্ষতস্থানটি অন্তত ১৫ মিনিট চলমান পানি ও সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, পৌরসভা থেকে সরবরাহ করা জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ‘এআরভি’ ভ্যাকসিন হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে এবং তা আক্রান্তদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজনে ওষুধ কিনতে হলে নকলা পৌরসভা থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

Related Articles

Back to top button