এম আর সাইফুল,মাদারগঞ্জ: ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার দুই প্রবাসীর মরদেহ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ দুটি নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।
নিহতরা হলেন- উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দক্ষিণ কোয়ালীকান্দি গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন মাস্টারের ছেলে বজলুর রশীদ (৩৮) এবং কড়ইচড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুঘুমারী গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে মনোহর আলী (৩৬)।
পরিবারের সদস্যরা জানান- গত ২৫ মে ইরাকের কুর্দিস্তান প্রদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের মৃত্যু হয়। শনিবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহ দুটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।
স্বজনরা জানান, মনোহর আলী চার বছর আগে এবং বজলুর রশীদ প্রায় দেড় বছর আগে জীবিকার তাগিদে ইরাকে যান। সেখানে তারা একটি কনফেকশনারি দোকানে কাজ করতেন। তবে তাদের কারও বৈধ কাগজপত্র বা আকামা ছিল না।
কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দীর্ঘ ২৬ দিন পর তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বজলুর রশীদের এবং সাড়ে ৫টায় মনোহর আলীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। জানাজায় সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন।
নিহত মনোহর আলীর স্ত্রী সোমা আক্তার বলেন-“আমার স্বামী ঋণ করে চার বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। সেখানে সে ভালো অবস্থায় ছিল না। কখনো ভাবিনি, এভাবে তার মরদেহ দেশে ফিরবে। এখনও অনেক ঋণ রয়ে গেছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব, জানি না।”
বজলুর রশীদের বড় ভাই সাফিউল ইসলাম জুয়েল বলেন-“আমার ছোট ভাই দেড় বছর আগে ইরাকে গিয়েছিল। গত ২৫ মে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। আজ সে কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরেছে। পরিবার পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।”
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন-“ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ দীর্ঘ ২৬ দিন পর দেশে ফিরেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”




